ক্রমেই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার দাবানল। নিউ সাউথ ওয়েলস এবং কুইন্সল্যান্ডের পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল। দাবানলের জ্বলন্ত শিখায় ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ২০০ টিরও বেশি বাড়ি। সিডনির শহরতলী অঞ্চলেও দাবানলের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কুইন্সল্যান্ডে সতর্কতা জারি করতে হয়েছে। আশঙ্কায় দিন গুনছেন হানটার, ইলাওয়ারা ও শোলহেভেনের বাসিন্দারাও। এই পরিস্থিতিতে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।  

 

নিউ সাইথ ওয়েলসের ৭৫টি জায়গায় এখনো আগুন জ্বলছে। বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাড়ি থেকে অন্যত্র নিরাপদ শিবিরে রাখা হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন কয়েক হাজার দমকলকর্মী। যাদের মধ্যে সবার নজর কেড়েছেন ২৩ বছরের এক যুবতী কেট রবিনসন উইলিয়ামস। স্বেচ্ছাসেবী এই দমকলকর্মী ১৪ সপ্তাহের অন্তস্বত্ত্বা। সকলে তাঁকে ভয়ঙ্কর এই দাবানল থেকে দূরে থাকতে বলেলও তাতে রাজি নন কেট। বরং তাঁর অন্যান্য সঙ্গীদের সঙ্গে তিনিও আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। 

গত ১১ বছর ধরো নিউ সাউথ ওয়েলসের ফায়ার সার্ভিসের স্বেচ্ছাকর্মী হিসাবে কাজ করছেন কেট। সোশ্যাসল মিডিয়ায়, পাস্ট করে এই সাহসী স্পষ্ট করে দেন দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে নিজের কাজ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। ২৩ বছরের কেটের যুক্তি, তিনিই প্রথম অন্তস্বত্ত্বা মহিলা নন যিনি নেজের কর্তব্য পালন করছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতে তিনি লিখেছেন, ছেলে না হয়েও অন্তস্বত্ত্বা অবস্থায় কর্তব্য পালনে তাঁর কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। 

তিন প্রজন্ম ধরে নিউ সাউথ ওয়েলসের দমকল বাহিনীর হয়ে কাজ করে চলেছে কেট রবিনসনের পরিবার। ১৯৯৫ সালে তাঁর মাও অন্তস্বত্ত্বা হিসাবে এই কাজ করেছেন বলে জানান এই তরুণী। তাঁর দিদিমাও এই কাজ করেছেন। কেটের স্বামী এবং শ্বশুর-শাশুড়িও দমকল বিভাগের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। 

বর্তমান সময়ে ছেলেদের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে চলেছে মেয়েরা। প্রযুক্তি থেকে চিকিৎসাশাস্ত্র, বিজ্ঞান থেকে মহাকাশ, সবকিছুই তারা সামলাচ্ছেন সমান পারদর্শিতায়। দমকল আধিকারিক হিসাবে কেট রবিনসন উইলিয়ামও এক অনন্য নজির গড়লেন।