গালওয়ান নিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত। যদিও সোমবার কিছুটা পিছু হঠেছে চিন। গালওয়ান উপত্যকার দেড় থেকে ২ কিলোমিটার পিছনে নিজেদের তাঁবু সরিয়ে নিয়েছে লাল ফৌজ। পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকেও সরে গিয়েছে চিনা বাহিনী। তবে এর মধ্যেই সামনে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার ইসলামাবাদকে ৪টি অস্ত্রবাহী ড্রোন দিতে চলেছে ড্রাগনের দেশ।

গালওয়ানে উত্তেজনা চলার সময় লাদাখের পূর্বভাগে যখন চিনা বাহিনী জড়ো হচ্ছিল তেমনি পশ্চিমভাগে লাদাখ সীমান্ত লাগোয়া পাক -অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালতিস্তানে সেনা বৃদ্ধি করেছিল পাকিস্তান। চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে গোপন আঁতাতেরও খবর পাওয়া যাচ্ছিল। সেই রেশ ধরেই এবার পাকিস্তানের সমরসজ্জা বাড়াতে এগিয়ে এল বেজিং। যদিও মুখে বলা হচ্ছে, চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গাদর বন্দরে নজর রাখতে এই ড্রোনগুলি ব্যবহার করা হবে।  কিন্তু এর পিছনে অন্য উদ্দেশ্য দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

আরও পড়ুন: করোনা সঙ্কটের মধ্যে এবার হানা দিল প্লেগ, চিনের জন্যে আরেক মহামারির আশঙ্কা বিশ্বে

বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত গাদর বন্দর। পাকিস্তানের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার চিন বিনিয়োগ করেছে তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই গাদর বন্দর।  এই বন্দরেই ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে চিনা নৌবাহিনী। 

চিনের সশস্ত্র এই এক একটি ড্রোনের মধ্যে রয়েছে আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপে সক্ষম ১২টি মিসাইল। এই মুবুর্তে বিশ্বের বৃহত্তম আর্মড ড্রোন এক্সপোর্টার জিনপংয়ের দেশ। পাকিস্তান ছাড়াও আকাকাস্তান, তুর্কমেনিস্টান, অ্যালজেরিয়া, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে হামলাকারী এই ড্রোন বিক্রি করেছে চিন। 

আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর সলিল সমাধি ২ বিমানের, ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সব যাত্রীর

এদিকে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে অস্ত্র আঁতাত সামনে আসতেই কোমর বেঁধেছে ভারতও। আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক ড্রোন কিনতে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। মিডিয়াম অলটিটিউড অনড্যুরেন্স আর্মড এই ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে শুধু যে শত্রু শিবিরের গোপন খবর সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে তাই নয়, মিসাইল ও লেজার নিয়ন্ত্রিত বোমার মাধ্যমে বিস্ফোরণও ঘটাতে পারবে।