Yunus: চিন সফরে গিয়ে সম্প্রতি উত্তরপূর্ব ভারতের নাম করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। এই আবহে ভারতের একাধিক রাজনীতিবিদ তোপ দেগেছিলেন ইউনূসকে।                                                          

Yunus: চিন সফরে গিয়ে সম্প্রতি উত্তরপূর্ব ভারতের নাম করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে। এই আবহে ভারতের একাধিক রাজনীতিবিদ তোপ দেগেছিলেন ইউনূসকে। তবে এসব কিছুর মাঝেই আবার ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটের শীর্ষ সম্মেলনে পাশাপাশি দেখা গিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসকে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি বিমস্টেক সম্মেলনের নৈশভোজ চলাকালীন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকেও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রার আয়োজিত বিশেষ এই নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন বিমস্টেক দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা। সেখানেই নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে এক টেবিলে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে খলিলুর রহমানকে। শুধু তাই নয়, দু'জনকে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিষয়ক জটিলতা সামলেছেন ডোভাল। 

মায়ানমার, পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে ডোকলামের সমস্যা সামলানোয় ডোভালের বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করা হয়। এদিকে পাকিস্তানে এয়ারস্ট্রাইকেও ডোভালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এছাড়াও ২০১৯ সালে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পরে ডোভাল নিজে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিগত মাসগুলিতে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। এদিকে বাংলাদেশ সরকারে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মতো ব্যক্তি ভারত ভাগ করার মতো বার্তা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টও করেছেন। বাংলাদেশে মৌলবাদ মাথাচাড়া দেওয়ায় সেখানে ভারত বিরোধী মনোভাব বেড়েছে।

এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধি খলিলুরের সঙ্গে ডোভালের এই কথাবার্তায় বিভিন্ন জল্পনা উঠে আসছে। এর আগে বাংলাদেশি সেনার মধ্যে অভ্যুত্থানের জল্পনা চলাকালীনও বারবার ভারতের নাম নিয়ে আক্রমণ শানাতে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের নতুন সব রাজনীতিবিদদের। তবে এই পরিস্থিতির মাঝেই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হতে দেখা গিয়েছে ইউনুসের সরকারকে। তবে এরই মাঝে আবার চিনে গিয়ে উত্তরপূর্ব ভারত নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে বসেছিলেন ইউনুস নিজেই।

রিপোর্ট অনুযায়ী, চিন সফরে উত্তরপূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মহম্মদ ইউনুস। তিনি নাকি বলেছিলেন, 'উত্তর-পূর্বে ভারতের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। তাদের সমুদ্রে পৌঁছনোর কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলে আমরাই সমুদ্রের দেখভাল করি। এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এটি চিনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণ হতে পারে।' যদিও পরে ঢাকার তরফ থেকে দাবি করা হয়, ইউনুসের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। 

এরই মাঝে আবার ত্রিপুরায় বিজেপির শরিক তিপ্রা মোথার নেতা তথা ত্রিপুরার রাজা প্রদ্যোত মণিক্য আবার বাংলাদেশ ভাগ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যার জেরে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় আরও চওড়া হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের প্রতিনিধির সঙ্গে ডোভালের কী কথাবার্তা হয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।