জনপ্রিয়তার কাছে হার মানল রীতি। বাংলাদেশে 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে পরিচিত মোষটিকে বকরিদের কোরবানি দেওয়া আটকাল সরকার। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মোষটি ইসলামিক উৎসবটি সামনে রেখে কোরবানির উদ্দেশ্যে আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মহিষটি কোরবানি হওয়ার আগেই জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও মনোযোগের কারণে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।
জনপ্রিয়তার কাছে হার মানল রীতি। বাংলাদেশে 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' নামে পরিচিত মোষটিকে বকরিদের কোরবানি দেওয়া আটকাল সরকার। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মোষটি ইসলামিক উৎসবটি সামনে রেখে কোরবানির উদ্দেশ্যে আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মহিষটি কোরবানি হওয়ার আগেই জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও মনোযোগের কারণে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বুধবার নিশ্চিত করেছে যে, মোষটিকে কোরবানির পরিবর্তে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হবে। সেখানে এটি এখন সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকবে।

সোশাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের একটি অ্যালবিনো মোষটির ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি রাতারাতি 'ভাইরাল সেনসেশনে' পরিণত হয়। এই বিরল মোষটিকে একনজর দেখার জন্য খামারটিতে বিশাল জনসমাগম ঘটে। মোষটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। অনেকে তো কেবল মোষের সঙ্গে ছবি তোলার জন্যই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্দেশ দিয়েছেন যেন মোষটিকে কোরবানির হাত থেকে রেহাই দেওয়া হয়। যে ক্রেতা মোষটিকে কোরবানির উদ্দেশ্যে কিনেছিলেন, তিনিও তাঁর টাকা ফেরত পাবেন।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক কর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, "নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং জনসাধারণের মধ্যে মোষটি নিয়ে অস্বাভাবিক মাত্রার আগ্রহের কারণে শেষ মুহূর্তে এটিকে কোরবানি থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।" ঢাকার কেরানিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানান, কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই শ্বেতবর্ণের মোষটি এখনও বেশ তরুণ এবং এটি আরও বেশ কয়েক বছর বেঁচে থাকতে পারে। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে তিনি বলেন, "প্রাণীসম্পদ দফতর আমাদের অনুরোধ করেছিল যেন আমরা মালিকের কাছ থেকে মোষটিকে নিয়ে নিই, কারণ এটি একটি অত্যন্ত বিরল প্রাণী।"
মোষটিকে এখন বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে এর জন্য একটি আলাদা খাঁচা করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানান, মোষটিকে দুই সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। রহমান বলেন, "আমরা এই শ্বেতবর্ণের মহিষটির জন্য একটি নির্দিষ্ট শেড বা ছাউনি নির্ধারণ করেছি এবং এর দেখভালের জন্য একজন নির্দিষ্ট পরিচর্যাকারীকে নিয়োগ দিয়েছি।"
মোষটির মালিক ছিলেন ৩৮ বছরের কৃষক জিয়া উদ্দিন মৃধা। তিনি জানান, "ট্রাম্প" নামটি রেখেছিলেন তাঁর ছোট ভাই। পরিবারের সদস্যদের মতে, মোষটির ঘন সোনালি রঙের লোম তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা মনে করিয়ে দিত। যা শুরু হয়েছিল নিছক একটি কৌতুক হিসেবে, তা-ই খুব দ্রুত সারা দেশের মানুষের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হল। মৃধা জানান, বর্তমানে বিখ্যাত হয়ে ওঠা এই মোষটিকে একনজর দেখার জন্য দলে দলে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করলে তাঁর খামারবাড়িটিই একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। মালিক এটিকে স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান যে, মোষের জন্য বাড়তি যত্ন-আত্তির প্রয়োজন হত, যার মধ্যে ছিল নিয়মিত খাবার দেওয়া এবং ঘন ঘন স্নান করানো। খ্যাতি যতই বাড়ুক না কেন, শেষমেশ মৃধা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিক্রি করে দেন—আর তা করেন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার ঠিক আগেই।