কোভিড-১৯ মহামারির বিপদ তিনি মানতেনই না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ববারবার করে সতর্ক করলেও কান দেননি। লকডাউন জারি বা প্রকাশ্য জায়গায় মাস্ক ব্যবহারেও ছিল তাঁর অপত্তি। এবার 'ট্রপিকাল ট্রাম্প' হিসাবে পরিচিত ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসনারো নিজেই পড়লেন কোভিড-১৯ রোগের কবলে। মঙ্গলবার রাতে তাঁর করোনা পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতিমধ্যেই করোনা ক্ষচিগ্রস্ত দেশগুলির তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে। এবার তাদের শীর্ষনেতাই অসুস্থ হয়ে পড়লেন।

যদিও করোনা পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক আসার পরও মচকাননি তিনি। একটি সরাসরি সাক্ষাত্কারে তিনি দাবি করেছেন, 'আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি'।  তিনি আরও জানিয়েছেন, যে তিনি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাচ্ছেন। ট্রাম্পের মতোই জোর গলায় তিনিও ম্যালেরিয়া-রোধী এই ওষুধটিকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে দাবি করেছেন। তবে বিশ্বের বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এখনও করোনাভাইরাস রোগীদের চিকিৎসায় এর ব্যবহারের কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দিহান। তাঁরা বেশি চিন্তিত এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে।

এর আগে করোনাভাইরাস মহামারিকে 'সামান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা মাত্র' বলেছিলেন ৬৫ বছরের ব্রাজিলিয় রাষ্ট্রপতি। চিকিত্সকদের সুপারিশ বারবারই অমান্য করেছেন তিনি। মুখে মাস্ক না পরেই তিনি জনগণের সঙ্গে মেলা মেশা করেছেন। মানুষের সঙ্গে দেদার হাত মিলিয়েছেন। সোমবার অবশ্য তাঁকে মাস্ক পরতে দেখা গিয়েছিল। সমর্থকদের খুব বেশি কাছাকাছি না আসার কথা বলেছিলেন বারবার বোলসোনারো। তিনি আরও জানিয়েছিলেন তাঁর শরীরেও করোনার উপসর্গ স্পষ্ট হচ্ছে। তাই চিকিত্সকদের পরামর্শ মেনে তিনি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখছেন। তবে দাবি করেছিলেন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে তাঁর ফুসফুস একেবারে 'পরিষ্কার' রয়েছে।

এর আগে গত মার্চ মাসেও বোলসোনারো ভাইরাস আক্রান্ত কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাঁর প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য করোনা পজিটিভ হিসাবে সনাক্ত হয়েছিলেন। সেই সময় বোলসোনারো-রও পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই যাত্রা অবশ্য ফলাফল নেতিবাচক এসেছিল। এর আগে মহামারিটির ক্ষতিকর প্রভাবের বাস্তবতা হোক, কি সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগ্রহন বা সম্ভাব্য চিকিত্সা - বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর, এমনকী তাঁর নিজের মন্ত্রিসভারই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেধেছিল প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর। ক্ষিপ্ত বোলসোনারো প্রথমে একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছিলেন। পরেরজন নিজেই পদত্যাগ করেছেন। এখন ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন অন্তর্বর্তী মন্ত্রী।