ভারতে কৃষকদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মঙ্গলবার, ৫৫১ তম গুরু নানক জয়ন্তী উপলক্ষে, গুরুপূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কানাডা সর্বদাই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার পক্ষে'। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সমস্যা নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আলোচনা করছে তাঁর দেশ।

কানাডার শিখ জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে এক অনলাইন অনুষ্ঠানে জাস্টিন ট্রুডো বলেন, 'ভারত থেকে কৃষকদের প্রতিবাদের খবর আসছে। পরিস্থিতিটি উদ্বেগজনক এবং আমরা সকলেই পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত।' এরপরই কানাডায় থাকা শিখদের আস্বস্ত করে তিনি বলেন, মনে রাখবেন, কানাডা সর্বদাই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার পক্ষে থাকবে। তিনি আরও বলেন, যে কোনও দ্বন্দ্বের অবসানেই কানাডা আলাপ-আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আর সেই কারণেই কানাডার সরকার এই বিষয়ে সরাসরি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক উপায়ে তাদের উদ্বেগ জানিয়েছে। ট্রুডোর মতে এটা বিশ্বের সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।

এই বিষযে এদিন ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতি পেশ করে বলা হয়, কানাডার রাষ্ট্রনেতা ভারতে কৃষকদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জেনেই মন্তব্য করেছেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় সম্পর্কে এই ধরণের মন্তব্য অনভিপ্রেত। 'কূটনৈতিক কথোপকথন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুলভাবে উপস্থাপন না করলেই ভাল হবে' বলে সতর্কও করা হয়েছে ত্রুদোকে।

আরও পড়ুন - শুধু ধর্ম নয়, পুরুষদের জানাতে হবে আরও বেশি কিছু - অসমে আরও কড়া 'লাভ জিহাদ' আইন

আরও পড়ুন - ডিসেম্বর পড়লেও শীত এল না কলকাতায়, সপ্তাহান্তে আরও চড়বে পারদ

আরও পড়ুন - ৫০০-র মধ্যে শুধু ৩২টি সংগঠন ডাক পেল সরকারের, ক্ষুব্ধ কৃষকরা আদৌ যোগ দেবেন তো

গত ৫দিন ধরে ভারতের ৫০০টিরও বেশি কৃষক সংগঠন দিল্লি ও হরিয়ানায় বিভিন্ন স্থানে, কেন্দ্রে নয়া প্রবর্তিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কেন্দ্র প্রথমে কৃষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ৩ ডিসেম্বর সময় দিয়েছিল। সোমবারই (৩০ নভেম্বর) সেই দিন এগিয়ে ১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। কিন্তু, আলোচনার জন্য শুধুমাত্র ৩২টি কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ পাঠানোয় আদৌ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যাবেন কিনা কৃষকরা সেই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ডাক পাওয়া কয়েকটি কৃষক সংগঠন এই প্রস্তাব মেনে নিলেও অনেকেই প্রত্যাখান করেছেন।

২০২০ সালের সংসদের বাদল অধিবেশনে মোদী সরকার কৃষি আইনে সংস্কার এনেছিল। তিনটি নতুন কৃষি আইন প্রবর্তন করা হয়। সরকার দাবি করছে এই আইনগুলি কৃষকদের ফসলের আরও ভাল দাম পেতে সহায়ক হবেষ কিন্তু,  আন্দোলনকারী কৃষকদের মতে, আইনগুলিতে ন্যূনতম সহায়তা মূল্য বা এমএসপি-র উল্লেখ না থাকায় তাদের ভাগ্য এখন উত্পাদন কর্পোরেশনগুলির হাতে নির্ভর করবে। এই নিয়েই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তাঁরা।