Asianet News BanglaAsianet News Bangla

করোনাভাইরাসে একমাসেই ক্ষতি ৩৩ লক্ষ কোটি টাকা, ধসে যাবে না তো চিনের 'দৈত্যাকার অর্থনীতি'

  • চিনে ৩০ বছরের ইতিহাসে অর্থনীতি  সব থেকে তলানিতে 
  • বিভিন্ন দেশ চিনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে
  • চিনের শেয়ার বাজারেও বড় ধস নেমেছে
  • করোনায় চিনের ক্ষতি ৩৩ লক্ষ কোটি টাকা 
Chiana  losses 33 lakh crores  in a month in  the impact of the Corona virus
Author
Kolkata, First Published Feb 27, 2020, 5:55 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

করোনা ভাইরাসে চিনে মৃতের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার ছুঁই ছুই। সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজারের দোরগোড়ায়। এই অবস্থা বিশাল প্রভাব ফেলেছে চিনের অর্থনীতিতে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন এই অবস্থা চলতে থাকলে চিনের ভিখিরি হওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা থাকবে না। কারণ করোনার প্রভাব ইতিমধ্যে চিনের পাশাপাশি পড়তে শুরু করেছে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে।

একদিকে করোনার প্রভাবে যেমন সংকুচিত হচ্ছে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিধি। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চিনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীক দিক দিয়ে সারা বিশ্বের অনেক দেশ চিন থেকে পণ্য আমদানী-রপ্তানীও বন্ধ রেখেছ। এই পরিস্থিতিতে সার্বিক দিক দিয়ে গত একমাসে চিনের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। চিন থেকে ইতিমধ্যেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে একাধিক বহুজাতিক বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সে দেশের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, একেবারে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছে চিনের অর্থনীতি। বলা হচ্ছে, ৩০ বছরের ইতিহাসে সব থেকে তলানিতে এখন দেশটির অর্থনীতি। যা চিনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। জানা গিয়েছে, গত চার বছরের মধ্যে চিনের ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিতে হঠাৎ করেই কমে গিয়েছে লাভের পরিমাণ। ভাইরাসের আতঙ্কে বিদেশি বিভিন্ন বানিজ্যিক সংস্থাগুলিও চিনে থাকা তাদের অফিসগুলি বন্ধ করে দিয়েছে। একে একে সেই সব অফিসের সমস্ত কর্মীদের ফিরিয়ে আনছে চিন থেকে। 
কেবল পণ্য ব্যবসা নয়, চিনের শেয়ার বাজারেও বড় ধস নেমেছে।  ক্রমাগত দর হারাচ্ছে চিনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার। তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ব শেয়ারবাজারেও। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালস, আর্থিক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা চিন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। প্রতিদিন ধাপে ধাপে কমছে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের কাজকর্ম। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে খুচরা বিক্রি। 

এদিকে আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স চিনে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের এভিয়েশন বাজারের ২৫ ভাগ চিনের দখলে। করোনা ভাইরাসের কারণে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সেই বাজার।

ইতিমধ্যে বিশ্বের ২৭টি এয়ারলাইন্স চিনের সঙ্গে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। অর্থনীতির কারবারিরা বলছেন, গত একমাসে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসের জন্যে ৪২০ বিলিয়ন ডলার যা টাকায় ৩৩ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।  এই অবস্থা চিনের পক্ষে যথেষ্ট মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে বিশাল এই ক্ষতি মোকাবিলা করা যায় চিনের কাছে তা রীতিমত বড় এক চ্যালেঞ্জ এখন। 

কয়েকদিন আগে চিনের শেয়ার বাজারের ধ্বস নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে,  সাংহাই কম্পোজিট ইনডেক্সে নয় শতাংশ পর্যন্ত দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। এছাড়া অব্যাহত রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত শেয়ারের দামের পতন।  
এর আগে পিপলস ব্যাংক অব চায়না জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশেষ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তারা স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ের ওপর সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ১৫০ বিলিয়ন ইউইয়ান তারা এই অর্থনীতিতে নিয়োগ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারের এই দামের পতন ঠেকানো যায়নি।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios