- Home
- World News
- International News
- খামেনেই ১টি হাত কেন সর্বদাই চাদরে ঢেকে রাখতেন? Iran-এর সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগেই হয়েছিল হামলা
খামেনেই ১টি হাত কেন সর্বদাই চাদরে ঢেকে রাখতেন? Iran-এর সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগেই হয়েছিল হামলা
Ayatollah Ali Khamenei: মৃত্যুর পরেই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই। কেন তিনি একটি হাত চাদর দিয়ে সর্বদা ঢেকে রাখতেন? নেতা হওয়ার ৮ বছর আগেই হত্যার ছক কষেছিল জঙ্গিরা।

যুদ্ধে নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই
আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিজের বাসগৃহেই রবিবার নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। কিন্তু এখনও তাঁকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই।
ইরানের ছবি
আলি খামেনেইর মৃত্যুতে ইরানের একাংশের বাসিন্দাদের মধ্যে যখন উচ্ছ্বাসের ঢেউ অন্য অংশে তখন রীতিমত শোকের ছায়া। যদিও গোটা বিশ্বেই গত কয়েক বছর ধরেই চর্চায় ছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। প্রায় চার দশক ধরেই ইরানের রাজপাট ছিল তাঁরই হাতে।
বর্তমানে চর্চায় খামেনেইর হাত
খামেনেইর যেসব ছবি দেখা যায় তার আধিকাংশতেই তাঁর একটি হাত চাদরের নিচে ঢাকা দিয়ে বা লুকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কেন? এই প্রশ্ন উঠছে তাঁর মৃত্যুর পরে।
হাত লুকিয়ে রাখার কারণ
তখনও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হননি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। সর্বোচ্চ নেতা হাওয়ার বছর আটেক আগে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খামেনেইকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান। যদিও গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। সেই আঘাত ছিল তাঁর হাতে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধ
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ১৯৮১ সালে ২৭ জুন সারির যোদ্ধাদের কাছে ফিরে আসার পরে তিনি একটি সমজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজের পর তিনি অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময়ই তাঁর ওপর হামলা হয়।
বিস্ফোরণে জখম খামেনেই
এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায় মাঝারি উচ্চতার কোঁকড়ানো চুল, দাঁড়ি ও চেকার্ড কোটের এক যুবক খামেনেইর সামনে একটি টেবিলে রাখা টেপ রেকর্ডার রাখে। আর তাতে চাপ দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণ হয়। তাতেই ডান হাত, ভোকাল কর্ড আর ফুসফুসে আঘাত পান খামেনেই।
কারা বিস্ফোরণ করেছিল?
তদন্তকারীরা জানিয়েছিল বিস্ফোরণ করেছিল ফুরকান গ্রুপ। কারণ টেপ রেকর্ডারের ভিতরে একটি নোট রাখা ছিল। সেখানে লেখা ছিল, 'ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য ফুরকান গ্রুপের উপহার।' এই গ্রুপ ছিল আয়াতুল্লাহদের বিরোধী একটি জঙ্গি গোষ্ঠী।
আহত খামেনেইর প্রতিক্রিয়া
সেই সময়ই আহত হয়েও শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছিলেন, খামেনেই। তিনি বলেছিলেন, 'আমার হাতের দরকার হবে না। আমার মস্তিস্ক আর জিহ্বার দরকার। সেটি যদি কাজ করে তাহলেই যথেষ্ট।' ডান হাতে টোট পাওয়ার পরেই তিনি বাম হাতে লেখার অভ্যাস করেন। আর মনোবল অটুট রেখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে ওঠেন।
খামেনেইর পরিবার
খামেনেই স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদহ ও ৬ সন্তান রেখে গেছেন। তার এক ভাগ্নে আর কয়েক জন নাতি-নাতনি প্যারিসে থাকেন । তবে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই ইরানের বাসিন্দা।
ইরানের দীর্ঘস্থায়ী শাসক
৮৬ বছরের আলি খামেনেই শুধু ইরানের নয় গোটা বিশ্বের একজন দীর্ঘস্থায়ী শাসক। তিনি রাজপাট চালিয়েছিলেন প্রায় ৩৭ বছর। তবে তাঁর মৃত্যুতে ইরানের আগামী শাসকরা দুর্বল হতে পারে। কারণ আমেরিকা আর ইজরায়েল তেমনই বার্তা দিয়ে রেখেছে।

