Khamenei Killed: মার্কিন-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সে দেশের বিদেশমন্ত্রক। এই ঘটনাকে 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' বলে উল্লেখ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ইরানের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের 'শাসকগোষ্ঠী' এই 'সন্ত্রাসবাদী হামলা' চালিয়েছে। রবিবার ভারতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে এই বিবৃতিটি শেয়ার করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রমজান মাসের দশম দিনে ভোরবেলা খামেনেইর বাসভবনে নৃশংস হামলা চালানো হয় এবং সেখানেই তিনি শহিদ হন।
খামেনেইর মৃত্যুতে ইরানের বিবৃতি
বিবৃতিতে বলা হয়, "ইসলামিক উম্মাহর নেতা এবং ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের মহান নেতা, আয়াতোল্লা আল-উজমা খামেনেই (তাঁর আত্মা শান্তি পাক) রমজান মাসের দশম দিনের সকালে তাঁর বাসভবনে আমেরিকান এবং জায়নবাদী শাসকদের নৃশংস হামলায় শহিদ হয়েছেন এবং সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছেন।" এই শাহাদাতের জন্য "শুভেচ্ছা ও সমবেদনা" জানিয়ে বিদেশমন্ত্রক ইরানের জনগণ, ইসলামিক উম্মাহ এবং বিশ্বের সমস্ত স্বাধীনতা ও শান্তিকামী মানুষের প্রতি বার্তা দিয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মতে, "ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর সামরিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবেই আমেরিকা ও ইহুদি শাসকেরা এই জঙ্গি হামলা চালিয়েছে।" এই ঘটনাকে "জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলির নজিরবিহীন লঙ্ঘন" বলে উল্লেখ করে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, "যেকোনো অজুহাতে ইরানের উপর সামরিক আগ্রাসন, নেতাদের হত্যা এবং নিরীহ নাগরিকদের হত্যার ফল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক হবে।"
ইরান আন্তর্জাতিক মঞ্চ, বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘে এবং তার নিরাপত্তা পরিষদকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "আমেরিকা এবং জায়নবাদী শাসকদের এই সংগঠিত অপরাধ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় থাকলে আগ্রাসনকারীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং বিশ্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গুরুতর পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে।"
ইরানের তোপ
ইরানের দাবি, আমেরিকা ও ইজরায়েল লাগাতার আইন ভাঙছে, প্যালেস্টাইনের মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং পশ্চিম এশিয়ার স্বাধীন দেশগুলিতে হামলা করছে। এই "অপরাধমূলক পরিকল্পনার কারিগর" হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে তাদের "সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অপরাধী ব্যক্তিত্ব" বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিপুল ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান দুর্বল হবে না বলে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "এই মহান নেতার শাহাদাত ইরানের সম্মান, স্বাধীনতা এবং প্রতিরোধের পথকে আটকাতে পারবে না। বরং এটি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও অধিকার রক্ষার জন্য জাতীয় সংকল্প এবং ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।" তারা আরও জানায়, "ইরানের মহান জাতি সর্বশক্তিমান আল্লাহ এবং তার সমৃদ্ধ সভ্যতা ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়তার সঙ্গে স্বাধীনতা, সম্মান এবং প্রতিরোধের পথে চলবে।" বিবৃতির শেষে বলা হয়েছে, "এই শাহাদাত কোনো পথের শেষ নয়, বরং দায়িত্ব ও ঐতিহাসিক দৃঢ়তার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।"
'অপারেশন রোরিং লায়ন' এবং 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে।
তেহরানসহ অন্যান্য বড় শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করে যে, এই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। তবে একটি ইজরায়েলি সংবাদপত্র জানিয়েছে, খামেনেইর পরিণতি সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক খবর নেই। ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং এর প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে "সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান" চালানোর শপথ নিয়েছে।
ইরানের বদলা
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বদলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনার ২৭টি ঘাঁটিতে এবং তেল আভিভে ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন এবং কুয়েতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করছে।
ওমানের উপকূলে একটি তেলের ট্যাঙ্কারেও হামলা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে বিমান সংস্থাগুলি তাদের ফ্লাইট বাতিল বা অন্য পথে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।


