গালওয়ান উপত্যকায় প্রাকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে পিছু হাঁটলেও এখনও সেনা সমাবেশ কমায়নি বেজিং। গালওয়ানের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবার কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। যা গালওয়ানের স্ট্যান্ড অফ পয়েন্ট থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু জড়ো হওয়া পিপিলস লিবারেশন আর্মির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে প্রকৃতি। কারণ প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এই সময় গালওয়ানের রীতিমত বেড়ে যায় জলের স্তর। যা ডেকে আনতে পারে বন্যা পরিস্থিতিও। 


এক সমর বিশেষজ্ঞের কথায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময় আকসাই চিন থেকে তৈরি হওয়া গালওয়ান নদীর জলের স্তর বেড়ে যায়। কারণ এই সময় গলতে থাকে উৎপত্তি স্থল বা নদীখাতে জমে থাকা বরফ। আর তাতেই যে কোনও মুহূর্তে জলের স্তর বাড়িয়ে দিতে পারে। তীব্র গতিতে তুষার গলে যাওয়ার কারণে যে কোনও মুহূর্তে জলস্তর বেড়ে গিয়ে বন্য পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে গালওয়ান নদী ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই সময় নদীন যেকোনও তীরবর্তী এলাকাই বিপদমুক্ত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সমর বিশেষজ্ঞ আরও জানিয়েছেন নদীর তীরে  বেশ কয়েকটি তাবু তৈরি করেছে চিন। বেশ কয়েকটি এলাকায় নদীর জল স্ফীত হয়ে বন্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

লাল ফিতের জট এড়াতেই পরামর্শ, 'কোভ্যাক্সিন' নিয়ে আইসিএমআর-এর নতুন বিবৃতি ...
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে ভারত চিন সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফার সামরিক বৈঠক  হয়ে গেছে। দুটি বৈঠক হয়েছে লাদাখ সীমান্তের ওপারে চিনের মোলডোতে। একটি বৈঠক হয়েছে লাদাখের চুসুলে। সবকটি বৈঠকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সীমান রেখা অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে চিন সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে গালওয়ান উপত্যকা। এই গালওয়ানের ১৪ নম্বর পেট্রোল পয়েন্টে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে ছিল ভারত ও চিন। যাতে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। চিনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি। 

৫৯ অ্যাপ ব্যানের পর প্রধানমন্ত্রীর লাদাখের সেনা ছাউনিতে সফর , আর সহ্য করতে পারছে না চিন .

তবে শেষ বৈঠকের পর গালওয়ান থেকে সৈন্য সরাতে চিন রাজি হয়েছেন। কিন্তু নতুন করে প্যাংগং লেক এলাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলাতা। প্যাংগং-এর বিস্তীর্ণ এলাকা চিন নিজেদের বলে অযৌক্তিকভাবে দাবি করছে। যা মেনে নেওয়া হয়নি বলেই সেনা সূত্রের খবর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত ও চিন দুই পক্ষণ আরও সামরিক বৈঠকে রাজি রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।