Asianet News Bangla

উষ্ণায়নের জেরে বিলুপ্তির পথে চকোলেট, ৩০ বছর পর মিলবে না এই 'আনমোল স্বাদ'

  • ৩০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে চকলেট 
  • কয়েক বছর পর চকলেট ব্যবসা টিকিয়ে রাখাও মুশকিল 
  • বিজ্ঞানীরা এর জন্য বিশ্ব উষ্ণায়নকেই দায়ি করছেন 
  •  চকলেট টিকিয়ে রাখতে বিঞ্জানীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন 
Cholocate may be a dead thing after 30 years due to Global Warming, Experts claim
Author
Kolkata, First Published Feb 10, 2020, 1:31 PM IST
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp


 আগামী তিরিশ বছর পর ভুলে যেতে হতে পারে চকলেটের স্বাদ। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক এন্ড অ্যাটোমসফেরিক এডমিনিস্ট্রেশন এর গবেষণা সে রকমটাই জানাচ্ছে। ওই গবেষণা রিপোর্ট জানাচ্ছে  আগামী ৩০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে চকলেট। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক বছর পর থেকেই চকলেট ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেতে পারেন ব্যবসায়ীরা। 

কেন হল এই অবস্থা? আসলে চকলেটের মূল উপাদান আসে কোকো গাছ থেকে। আর সেই কোকো গাছ চাষ হয় বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলে। কোকো গাছের বেড়ে ওঠার জন্য দরকার হয় সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা। তাছাড়া, আর্দ্রতা বেশি না হলে বা প্রচুর বৃষ্টিপাত না হলে কোকোর চাষ ভাল হয় না। ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কোকো চাষের জন্য আদর্শ। এছাড়া বেশি আদ্রতা বা প্রচুর বৃষ্টিপাতও দরকার হয়। 

লাতিন আমেরিকার দেশ পেরু, মেক্সিকো, ইকুয়েডর, ব্রাজিল এবং আফ্রিকার মাত্র কয়েকটি দেশে কোকো উৎপাদনের হার বেশ ভাল। কিন্তু প্রতি বছর যেভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে চলেছে, সেই হিসেব অনুসারে উষ্ণতা আর মাত্র দুই দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেলেই কোকোর চাষ অসম্ভব হয়ে পড়বে। সেই কারণে গবেষকদের ধারণা শেষ হয়ে যেতে পারে চকলেট শিল্প এবং তার বাজার। 

গবেষকরা বলছেন ২০৫০ সালের মধ্যেই পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে চকলেট। তখন কোকো চাষের জন্য সমতল থেকে উঠতে হবে ১০০০ ফুট উচ্চতায়। পাহাড়ের কোলে তৈরি করতে হবে কোকো ক্ষেত।  যেখানে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে সমতলের থেকে কম। কিন্তু তখন বেড়ে যাবে চাষের খরচ। দক্ষিণ আমেরিকায় হাজার ফুট উঁচুতে অনেকটা জায়গা জুড়ে পাহাড় আছে। কিন্তু বেশিরভাগ পাহাড় বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম। অতএব সেই পাহাড়ে চাষ বাস সম্পূর্ণভাবেই নিষিদ্ধ। 

বিগত কয়েক বছর থেকেই চকলেটের বাজারে মন্দা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী যোগান অনেক কম হচ্ছে। চিন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ব্রাজিল রাশিয়ার মতো দেশগুলিতে গত শতকের ন’য়ের  দশক থেকেই প্রচুর মানুষ কোকো চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। কিন্তু কোকো গাছ বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া না থাকায় চাহিদা অনুসারে যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

লন্ডনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হার্ডম্যান এগ্রিবিজনেস জানাচ্ছে, কোকো উৎপাদন কমছে, কারণ চাষের পদ্ধতি এখনো প্রাচীন। তারা এও জানাচ্ছে যত দিন যাবে ঘাটতি বাড়তেই থাকবে। পাশাপাশি কোকো চাষ এবং চকলেট ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া এবং চকলেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মার্স কোম্পানি যৌথ উদ্যোগে গবেষণা শুরু করেছে। তারা জীন এডিটিং প্রযুক্তি সিআরআইএসপিআর ব্যবহার করে কোকো গাছকে টিকিয়ে রাখা যায় কি না সেই চেষ্টা চালাচ্ছেন।  

কেবল তাই নয়, স্নিকার্স ও টুইক্স বার প্রস্তুতকারী চকলেট কোম্পানি মার্স কোকোর এমন একটি জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে যা জলবায়ু পরিবর্তনের ধকল সহ্য করে টিকে থাকতে পারে। 

 কিন্তু তাতেও সমস্যার পুরো সমাধান হচ্ছে না। কারণ এর কুপ্রভাব পড়বে পরের প্রজন্মের গাছগুলির ওপর। তাছাড়া এখন যে ধরনের জমিতে কোকো চাষ করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে তার প্রায় ৯০ ভাগ জমিই আর  চাষ যোগ্য থাকবে না।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios