ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের নতুন রূপান্তর অবিষ্কার হওয়ার পর যেন বিশ্বজুড়ে আরোই কোভিড ভ্যাকসিনের আকুতি বেড়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে চাইছে। আর প্রতিটি দেশই নাগরিকদের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিনের ডোজ সংগ্রহ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরমধ্যেই কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায় কোভিড ভ্যাকসিনে শুয়োরের মাংসের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রসঙ্গত, মুসলিম ও ইহুদিদের মতো বিশ্বের বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শুয়োরের মাংসজাত পণ্য ব্যবহারে নিষিদ্ধাজ্ঞা রয়েছে।

বিশ্ব জুড়েই এখন মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নেওয়া নিয়ে সংশয তৈরি হয়েছে। কারণ, লোকমুখে ছড়াচ্ছে, কোভিড ভ্য়াকসিন তৈরিতে শুয়োরের মাংস ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, ফাইজার, মোদারেনা এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা - কোভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে সবথেকে এগিয়ে থাকা তিন সংস্থাই দাবি করেছে, তাদের ভ্যাকসিনে শুয়োরের মাংসজাত কোনও পণ্য ব্যবহার করা হয়নি।

ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সাধারণত কোনও ভ্যাকসিনকে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় নিরাপদ ও কার্যকরি রাখতে শুয়োরের মাংস থেকে প্রাপ্ত জেলাটিন ব্যবহার করা হয় স্টেবিলাইজার হিসাবে। বছরের পর বছর বিশ্বের বেশিরভাগ ভ্যাকসিনেই তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাজেই এই তিন সংস্থা না করলেও অন্য ,সংস্থার তৈরি কোভিড ভ্যাকসিনে শুয়োরের মাংস ব্যবহার হতেই পারে।

কাজেই ভ্যাকসিন নেওয়া হালাল হবে না হারাম - এই নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে,  ইসলামিক সেন্টার অব ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট তথা উত্তরপ্রদেশের মুসলিম নেতা মৌলানা খালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মহালি সাফ জানিয়েছেন, কোরানে বলা হয়েছে কোনও ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে 'হারাম' দ্রব্য ব্যবহার করা যেতেই পারে। তিনি তাঁর অনুগামীদের 'গুজবে' কান না দিয়ে, কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণ করারই পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রাণরক্ষা সবচেয়ে বড় বিষয়, তাই জীবনদায়ী ওষুধ কখনই ধর্মের বিষয় হতে পারে না। তিনি আরও বলেছেন, এই টিকা কোনও রাজনৈতিক দল বের করছে না, তাই টিকাকরণে রাজনৈতিক রঙ দেওয়াও উচিত নয়। পোলিও টিকাকরণে সরকারের পাশে ছিল ইসলামিক সেন্টার, এবারও থাকবে।