বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের মানুষ বর্তমানে আক্রান্ত মারণ করোনা ভাইরাসে। গত বছর ডিসেম্বরে যার প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল উহানে। গত তিন মাস ধরে নতুন এই ভাইাসের দাপটে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে অধিকাংশ দেশের স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনীতি। বর্তমানে চিনের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চোখ রাঙ্গানি শুরু করেছে কোভিড-১৯। ইতিমধ্যে ইতালিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে চিনকে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানেও। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৮৪।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কের মাঝে মাস্ক পরে বিয়ের পিঁড়িতে বর-কনে, রিটার্ন গিফটে দিলেন স্যানিটাইজার

যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন খারাপ হচ্ছে ইরানের পরিস্থিতি। এর মধ্যেই দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মুখপাত্র কিয়াংশ জাহানপুর একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করেছেন। তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে প্রতি ১০ মিনিটে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১ জনের। আর প্রতি এক ঘণ্টায় এই মারণ ভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন কমপক্ষে ৫০ জন।

ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলিরেজা রেইসি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে মৃত্যু হয়েছে ১৪৭ জনের। আর গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ১,১৯২ দনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। যার ফলে বর্তমানে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮,৪০৭। পরিস্থিতি সামল দিতে দেশটিতে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। দেশবাসীকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: করোনা থেকে সুস্থ হয়েও হল না শেষরক্ষা, দেশে ফিরতে পারলেন না ভারতে আসা ইতালিয় পর্যটক

গত সপ্তাহেই স্যাটেলাইট থেকে তোলা একটি ছবিতে ইরানে গণকবরের কথা প্রকাশ্যে আসে। দেশটির করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র কোম শহরে এই ঘণকবর খোঁড়ে ইরান প্রশাসন। ছবিটি প্রকাশ করেছিল একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম। দাবি করা হয়েছিল, করোনা ভাইরাসে মৃতদের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করতেই এই গণকবর দিচ্ছে ইরান। পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি আশঙ্কা করছে, করোনা মহামারিতে ইরানে মারা গেছে সরকারি হিসাবের থেকেও কয়েকগুণ বেশি মানুষ। সেই তথ্য চাপা দিতেই গণকবর দেওয়া হচ্ছে কোভিড-১৯ ভাইরাসে মৃতদের।