মহিলাদের অন্তর্বাস পরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনজন পুরুষ। পিছনে একটি সামরিক ট্যাঙ্ক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এইরকম কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে এই ছবিগুলি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস সন্ত্রাসবাদীদের। বলা হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের সময়, তারা জানিয়েছে আত্মবলিদানের ফলে তাদের জন্নত বা স্বর্গবাস পাকা। সেখানে গেলেই ৭২ জন কুমারী মেয়ের দেখা মিলবে। তাদের জন্যই নাকি তারা ওই অন্তর্বাসগুলি পরে নিয়ে যাচ্ছিল।

আইএসআইএস জঙ্গিদের ধর্মান্ধতার কারণে বহু অদ্ভূত অদ্ভূত এবং ভয়ানক রীতি রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু, তাই বলে সত্য়ি সত্যিই কি তারা স্বর্গের কল্পিত ৭২ জন কুমারীর জন্য সবসময় নিজেরাই মহিলাদের অন্তর্বাস পরে থাকে? এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েথে এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। দেখা যাক তাতে কী জানা গেল।

ওই ভাইরাল হওয়া ছবিগুলি ধরে গুগল-এ বিপরীত অনুসন্ধান চালানো হয়। তাতে দেখা গিয়েছে ছবিগুলি অন্তত তিন বছর আগে ২০১৭ সালে বেশ কয়েকটি বিশ্বের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেইসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিগুলি সিরিয় শরণার্থীদের ছবি, আইএস জঙ্গিদের কোনও উল্লেখ সেখানে নেই।

'দ্য সান' পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি ও প্রতিবেদনের হেডলাইন

প্রতিবেদন অনুসারে ওই সিরিয় শরণার্থীরা দক্ষিণ তুরস্কের হাতায় সীমান্ত অতিক্রম করে তুরস্কে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তুর্কি সেনাবাহিনীর তাদের ধরার পর বেধড়ক মারধর করে এবং মহিলাদের অন্তর্বাস পরিয়ে ছবি তুলে তাদের চূড়ান্ত লাঞ্ছনা করে। ওই সংবাদমাধ্যমগুলির ওয়েবসাইটে ওই সিরিয় শরণার্থীদের এইরকম আরও বেশ কিছু ছবি রয়েছে। অনেক ছবিতেই তাদের হাতে এবং পিঠে মারের চিহ্নও দেখা গিয়েছে।

অর্থাৎ, স্বর্গের ৭২ জন কুমারীদের দেওয়ার জন্য আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদীরা মহিলাদের অন্তর্বাস পরে লড়াই করছে বলে যে দাবিটি করা হয়েছে ভাইরাল সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে তা একেবারেই ভুয়ো। সেই দাবির পিছনে লুকিয়ে রয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নির্মম কাহিনি।