- Home
- World News
- International News
- আয়াতুল্লাহ আলি খামনেইকে কী করে হত্যার ছক কষেছিল মোসাদ? প্রকাশ্যে এল সেই ভয়ঙ্কর তথ্য
আয়াতুল্লাহ আলি খামনেইকে কী করে হত্যার ছক কষেছিল মোসাদ? প্রকাশ্যে এল সেই ভয়ঙ্কর তথ্য
Iran-Israel war: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ক্রমশই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। খামেনেইর মৃত্যুর পরেও তা থামেনি। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে কী করে হত্যার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছিল ইজরায়েলের গুপ্তচর বাহিনী মোসাদ আর আমেরিকা তাই দেখুন।
ভয়ঙ্কর যুদ্ধ
দিন যত যাচ্ছে ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল আর আমেরিকার যুদ্ধ ততই ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে। বর্তমানে তিন দেশের যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়ার প্রায় ১০টি দেশ কমবেশি জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সামনে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। তা হলে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ কী করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লায় আলি খামেনেইকে ট্র্যাক করেছিল।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। গত ৩৭ বছর ধরে তিনি ইরানের রাজপাট চালাচ্ছেন। দিন - রাত সম্পূর্ণ নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকতেন খামেনেই। সেই কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করেই খামেনেইকে ট্র্যাক করা ও তাঁকে হত্যা করা ছিল যথেষ্টই কঠিন। কিন্তু শত্রু দেশ ইরানের ওপর ইজরায়েল দীর্ঘ দিন ধরেই নজরদারি চালিয়েছিল। ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এই বিষয়ে পুরোপুরি প্রযুক্তিগত সাহায্য নিয়েছিল।
তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা হ্যাক
এক বা দুই দিন নয়, বহু বছর ধরেই তেহরানের ট্রাফিক ক্যামেরা হ্যাক করেছিল ইজরায়েল। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল খামেনেইর গতিবিধি নজরবন্দি করা। মূলত তিনি কবে, কখন, কোথায় যান তা খতিয়ে দেখা। তাঁর কার্যালয় পাস্তুর স্ট্রিটকে প্রযুক্তির মধ্যেদিয়ে পুরোপুরি হাতের তালুর মত করে চিনে নিয়েছিল মোসাদ বাহিনী।
খামেনেইর নিরাপত্তা বাহিনী
ইজরায়েলের নজরে শুধু খামেনেই ছিলেন এমনটা নয়, তাদের নজরে ছিল খামেনেইর নিরাপত্তারক্ষীর যাবতীয় তথ্য ছিল ইজরায়েলের হাতের মুঠোয়। তাদের কাজের সময় আর কী কী কাজ কোন কোন নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে তাও জেনেছিল প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে। ব্রিটেনের একটি দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী জটিল অ্য়ালগরিদমগুলি নিরাপত্তারক্ষীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিল। যা আয়াতুল্লাহকে হত্যার পথ প্রশস্ত করেছিল।
খামেনেইর অবস্থান
মোসাদের হাতে থাকা রিয়েল টাইম ট্র্যাফিক ডেটা ট্র্যাক করার মাধ্যমে সিআইএ শনিবার সকালে সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য আগে থেকেই পেয়ে গিয়েছিল। তিনি কখন অফিসে আসবেন, তাঁর সঙ্গে কারা কারা কাজ করবে - সবই আগে থেকে জানতে পেরেছিল সিআইএ।
বৈঠকের খবর
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থল পাস্তুর স্ট্রিটে ইরানে নেতাদের একটি বৈঠক হবে। এমনটা আগে থেকেই জানতে পারে সিআইএ আর মোসাদ। আর সেইমত ব্লুট প্রিন্ট তৈরি করে আমেরিকার সেনা বাহিনী। কারণ পাস্তুর স্ট্রিটের সব মোবাইল ফোনের টাওয়ারেক একটা যন্ত্রাংশ ইজরায়েল বিঘ্নিত করে। ফলে ফোন করতে গেলেই সেগুলি ব্যস্ত দেখায়। যা খামেনেইর সুরক্ষা বিভাগকে আগে থেকে সতর্কতা গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছিল।
গাণিতিক পদ্ধতি
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরানের রাজধানী তেহরানের গোয়েন্দা চিত্রটি ছিল শ্রমসাধ্য। ইজরায়েলের অত্যাধুনিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮২০০, মোসাদের নিয়োগ করা কর্মীদের ডেটার মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বেছে নেওয়ার কাজের জন্য ইজরায়েল বিশেষ গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। তা সাফল্য পায় খামেনেইর মৃত্যুতে।
কাজ শুরু জুনে
ইজরায়েলের কর্মকর্তাদের কথায় এই কাজ শুরু হয়েছিল জুন মাসের আগে। সেই সময় ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। সেই সময় আমেরিকা আর ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন পরমাণু বিজ্ঞানী ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল এই ডেটা বিশ্লেষণ করে।
ইজরায়েলের দাবি
"আমরা প্রথমে তাদের চোখ পরীক্ষা করেছিলাম," একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুনের যুদ্ধে এবং এখন, ইসরায়েলি পাইলটরা স্প্যারো নামে একটি নির্দিষ্ট ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যার বিভিন্ন রূপগুলি ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে - ইরান এবং তার যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে - ডাইনিং টেবিলের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, রিপোর্টে বিশদভাবে বলা হয়েছে।
বাঙ্কারে যাওয়ার আগেই হত্যা
"আমরা প্রথমে তাদের চোখ পরীক্ষা করেছিলাম," একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুনের যুদ্ধে এবং এখন, ইসরায়েলি পাইলটরা স্প্যারো নামে একটি নির্দিষ্ট ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছেন, যার বিভিন্ন রূপগুলি ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে - ইরান এবং তার যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাগালের বাইরে - ডাইনিং টেবিলের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, রিপোর্টে বলা হয়েছে। সেই সুযোগ না দিয়েই খামেনেইকে হত্য়া করে আমেরিকা আর ইজরায়েল।

