নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হচ্ছে তার নাম। তা শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে আসবে কিনা তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে বিকল্প নোবেল পুরস্কার বলে পরিচিত 'রাইট লাইভলিহুড' পেল পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করা সুইডেনের ১৬ বছরের তরুণী গ্রেটা থানবার্গ। এই বছর গ্রেটা ছাড়াও আরও তিনজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দাবিদাওয়াগুলিকে জোরালো করা ও এই বিষয়ে বিশ্বব্যাপী মানুষকে আন্দোলনে উৎসাহিত করার জন্যই গ্রেটাকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

১৯৮০ সালে চালু হয় 'রাইট লাইভলিহুড' পুরস্কার। পরিবেশ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কারের তালিকায় আরও দুটি বিভাগ যোগ করার দাবি জানানো হয়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। কিন্তু তা মানেনি নোবেল কমিটি। এরপরই 'রাইট লাইভলিহুড' পুরস্কার চালু হয়, যা বিকল্প নোবেল পুরস্কার নামেই বেশি খ্যাত।

পুরস্কার পাওয়ার পর গ্রেটা বলেছে, তাকে এই সম্মান দেওয়ায় সে কৃতজ্ঞ। তবে এই পুরস্কারের তার একার নয়। বিশ্বব্যাপী তরুণ, কিশোর, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ, যারা পৃথিবীকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করছে, এই পুরস্কার তাদের সবার। পুরস্কারের স্মারক সহ গ্রেটা ১ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা বা ভারীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে তার কাজে দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য করা হবে।

গত শুক্রবার গ্রেটার আহ্বানে ১৫০টি দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদের মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সেই বিক্ষোভের আঁচ পড়েছিল শহর কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত। নিউইয়র্ক শহরে গ্রেটার নেতৃত্বে হয় মূল মিছিলটি। তারপর মঙ্গলবারই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের জলবায়ু সম্মেলনে দারুণ আবেগপ্রবন এক বক্তৃতা দিয়েছে গ্রেটা।

বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের সামনেই তাঁদের কড়া সমালোচনা করেছে। সে বলে রাষ্ট্রনেতারা সময় থাকতে কোনও ব্যবস্থাই নেননি। পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর এখন সেই পরের প্রজন্মের কাছেই তারা অনুপ্রেরণা খুঁজতে এসেছেন। এরপরই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ১৬ বছরের মেয়েটি গর্জে উঠেছিল, 'এই কথা বলার সাহস পান কোথা থেকে?' যেই উক্তি সারা বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ রক্ষা বিশ্ব উষ্ণায়নের মোকাবিলায় কাজ করা মানুষের স্বর হয়ে উঠেছে।

গত বছর অগাস্টে সুইডেনে সুইডেন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে 'বিদ্যালয় ধর্মঘট'-এর ডাক দিয়েছিল গ্রেটা। যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুলশিক্ষার্থী থেকে বড়দের পর্যন্ত অনুপ্রাণিত করে। ধীরে ধীরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশে।