রাষ্ট্রসঙ্ঘ চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমেরিকা সহ প্রায় ১৩০টি দেশ বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ না করায় হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

নিউইয়র্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রায় ১৩০টি দেশ এখনও তাদের বার্ষিক চাঁদার বকেয়া পরিশোধ করেনি। আমেরিকার একার কাছেই পাওনা ৪০০ কোটি ডলার। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, আমেরিকার কাছ থেকে বকেয়া অর্থ কখন পাওয়া যাবে তার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন। এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট কিছু জানাবে বলে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আশা করছে। গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, যদি রাষ্ট্রসঙ্ঘের আর্থিক নিয়মে পরিবর্তন না আনা হয় বা ১৯৩টি সদস্য দেশ সময়মতো তাদের বকেয়া পরিশোধ না করে, তাহলে সংস্থাটি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হবে। তার এই মন্তব্য মূলত আমেরিকাকে লক্ষ্য করেই ছিল।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের দৈনন্দিন কার্যক্রমের জন্য আমেরিকার ২১৯.৬ কোটি ডলার দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ৭৬.৭ কোটি ডলার শুধুমাত্র এই বছরের জন্যই ধার্য। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি মিশনের জন্য আমেরিকাকে আরও ১৮০ কোটি ডলার দিতে হবে। আগামী দিনে এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

দ্বিতীয় স্থানে ভেনেজুয়েলা

বকেয়া রাখা দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, যাদের কাছে পাওনা ৩.৮ কোটি ডলার। আর্থিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভেনেজুয়েলা সাধারণ পরিষদে ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমার মধ্যে মাত্র ৬০টি দেশ তাদের বার্ষিক চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বকেয়ার একটি অংশ পরিশোধ করবে। তবে ঠিক কত টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস এবং মাইক ওয়াল্টজের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে এবং তারা অর্থ প্রাপ্তির নির্দিষ্ট তারিখের জন্য অপেক্ষা করছেন।

গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, জুলাই মাসের মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের অপারেশনাল ফান্ড শেষ হয়ে যেতে পারে, যা সংস্থার কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগ, রাষ্ট্রসঙ্ঘ তার সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করছে না। গত বছর আমেরিকা রাষ্ট্রসঙ্ঘকে কোনো অর্থ দেয়নি। এছাড়াও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনেস্কোর মতো সংস্থা থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।