সারা বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিশেহারা তখনি ফের এক নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গির দল। তালিবানদের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তির পরে এটাই ছিল আফগানিস্তানের কাবুলে বড়সড় জঙ্গি হামলা। রাজধানী কাবুলের এক  শিখ গুরু গুরুদ্বারে প্রার্থনা চালানোর সময় অকর্কিতে হামলা চালায় ৪ বন্দুকবাজ। যার ফলে মৃত্যু হয় ২৫টি তরতাজা প্রাণের। আইএস এই হামলার দায় আগেই স্বীকার করেছে। এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাবুল হামলায় জড়িয়ে গেল ভারতের নামও। হামলাকারীদের মধ্যে একজন কেরলের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

২৫ মার্চ শিখ গুরুদ্বারে হামলা চালিয়েছিল ৪ আইএস জঙ্গি। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর জঙ্গিদের খতম করে ৮০ জন পণবন্দিকে গুরুদ্বার থেকে শেষপর্যন্ত উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রথমে এই ঘটনার পিছনে তালিবানদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু পরে দায় স্বীকার করতে দেখা যায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীকে। সম্প্রতি আইএস মুখপত্র অল নাবাতে কাবুল হামলার মূলচক্রী হিসাবে আবু খালিদ আল হিন্দির ছবি প্রকাশ করা হয়। তারপরেই জানা যায় ভয়ঙ্করতম সত্য। মধ্য তিরিশের  ওই যুবকের আসল নাম মহম্মদ সাজিদ কুথিরুলম্মান। আর তার বাড়ি ভারতের কেরলে।

আরও পড়ুন: ইএমআই না দেওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে জমা হয়েছে অনেক প্রশ্ন, উত্তর দিল স্বয়ং শীর্ষ ব্যাঙ্ক

সূত্রের খবর, আল হিন্দি আসলে কেরলের কাসারগোডের পাদনে অঞ্চলের এক দোকানদার। বছর চারেক আগে কেরলের ওই দোকানদার অন্য ১৪ জন যুবকের সঙ্গে আইএসে যোগ দিতে পালিয়ে গিয়েছিল। ২০১৬ সালে এইআইএ মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশও জারি করেছিল। 

আরও পড়ুন: কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়ে বান্ধবীর বিপদ বাড়ালেন যুবক, তরুণীকেও পাঠান হল আইসোলেশনে

২০১৬ সালে কেরালার কাসারগোদের এক দম্পতি  মিসিং ডায়েরি করেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের ৩০ বছরের ছেলে আবদুল রশিদ তার স্ত্রী আয়িশা এবং সন্তানের সাথে প্রায় দু'মাস ধরে নিখোঁজ । সেই  সময়ে সাজিদ ছাড়াও আরও ১৪টি নিখোঁজ মামলা একই এলাকায় জমা পড়েছিল পুলিশের কাছে।  প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছিল,  নিখোঁজ ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ  সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে ভারত ত্যাগ করেছিল।

এনআইএ তদন্তে জানা গেছে যে ২০১৫ সাল থেকে আবদুল রশিদ, ইয়াসমিন এবং অন্যান্যরা কেরল এবং ভারতের বিভিন্ন  জায়গায় আইএসের বিস্তারে কাজ  করছিল। সাজিদসহ ১৫ জন আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে সন্ত্রাসবাদী গ্রুপে যোগ দিতে ভারতের কেরল থেকে পালিয়ে এসেছিল। যদিও এনআইএ সাজিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল না করলেও তাকে মামলার আসামী ও পলাতক হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছিল।