চিতেতসু ওয়াতানাবে, বয়স তাঁর ১১২ বছর ৩৪৪ দিন। তিনিই বর্তমানে বিশ্বের বয়স্কতম পুরুষ। ১৯০৭ সালে উত্তর জাপানের নাইগাতা-তে জন্মেছিলেন তিনি। সেই শহরেরই এক নার্সিংহোমে সম্প্রতি তাঁকে এই বিষয়ে শংসাপত্র দিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। এই বিষয়ে এর আগের রেকর্ডধারী, মাসাজো নোনাকা-ও ছিলেন জাপানি। গত মাসে তাঁর মৃত্যুর পর চিতেতসু ওয়াতানাবে হলেন এই রেকর্ডের অধিকারী। বয়স্কতম জীবিত ব্যক্তি-ও এক ১১৭ বছর বয়সী জাপানি মহিলা, কানে তানাকা।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ওয়াতানাবে, তাইওয়ান-এ চলে গিয়েছিলেন। ডাই-নিপ্পন মেজি সুগার নামে এক চিনি কারখানায় কাজ করতেন। ১৮ বছর সেখানে থাকার সময় মিতসুয়ে নামে এক মহিলাকে বিবাহ করেন। তাঁদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ওয়াতানাবে নাইগাতায় ফিরে আসেন। তারপর জাপান সরকারের হয়ে কাজ করেন। একইসঙ্গে পারিবারিক খামারে ফল এবং শাকসব্জীর চাষও করতেন। বছর দশেক আগেও তিনি বনসাই করতেন। জাপানি ঐতিহ্য মেনে ছোট আকারের গাছ দিয়ে তৈরি তাঁর সেই শিল্পকর্ম বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত-ও হত।

এখন আর কাজ করতে পারেন না। পছন্দ কাস্টার্ড এবং ক্রিম পাফের মতো মিষ্টি খাবার। কিন্তু জাপানিদের এত দীর্ঘায়ু হওয়ার নেপথ্যের রহস্য কী? ওয়াতানাবে বলেছেন রাগা চলবে না। রাগে মানুষের আয়ুক্ষয় হয় বলেই মনে করেন তিনি। ওয়ানাতাবে জানিয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ দিনের সাক্ষী হয়েও তিনি কখনও হাসি থামাননি। তাঁর মতে হাসিখুশি থাকাটাই তাঁর দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য। তাই পৃথিবীর সকলকেই তিনি তাঁর মতো হেসেখেলে দিন কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।