আর কয়েকদিন পড়েই আসছে বর্ষাকাল। বাইরে বের হলে একটা হাত সবসময় বন্ধ ছাতায়। একহাতে সেলফি  তুলতে গেলেন হয় উল্টে গেল ছাতা, অথবা ফোন গিয়ে পড়ল কাদা জলে। শুধু সেলফি তোলাই নয়, খাওয়া দাওয়া, সাইকেল চালানো, থেকে বেশ কিছু কাজ, যা দুই হাতের ব্য়বহার লাগে, লসেইসব করতে বর্ষাকালে সমস্যায় পড়েন মানুষ। কেমন হত যদি হাতে ধরতে না হত ছাতা। যদি ব্যবহারকারীর মাথার উপরে ভেসে থাকত ছাতাটা। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই অনুসরণ করত সেটি?

না কল্পনাকে পাখা মেলতে দিয়ে মস্তিষ্ককে বেশি কষ্ট দিতে হবে না। কারণ এটা কোনও কল্পবিজ্ঞান নয়, বা ম্যাজিক নয়। ইতিমধ্যেই বাস্তব জগতে দেখা মিলেছে এইরকম আশ্চর্য ছাতার। এক ভিডিও-তে প্রখ্য়াত ফরাসি জাদুকর মওলা-কে বৃষ্টিস্নাত প্যারিস শহরে এরকমই এক উড়ন্ত স্বংয়ক্রিয় ছাতা ব্যবহার করতে দেখা গেল।

ওই উড়ন্ত ছাতা মাথায় দিয়েই ছবির মতো সুন্দর প্যারিস শহরের বিভিন্ন এলাকার ছবি তুলেছেন মওলা। শুধু তাই নয়, গোলাপি ওই ছাতা উড়িয়েই তাঁকে দেখা গেল প্যারিস শহরে দুই হাত দিয়ে খাবার খেতে। সাইকেল চালাতে। আর তিনি যেখানেই গিয়েছেন, বিশ্বস্ত সহচরের মতো মাথার উপরে থেকেছে ছাতাটি।

মওলা নিজে জাদুকর হলেও এটা কিন্তু কোনও জাদুর খেলা ছিল না। এই ছাতা মওলা ও তাঁর অহমেন্টেট ম্য়াজিক সংস্থার দলবল আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ড্রোনবেলা, অর্থাত ড্রোন-বাহিত আম্ব্রেলা বা ছাতা। এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় শুধুমাত্র একটি মোবাইল অ্যাপ দিয়েই। অর্থাত পকেটে একটি স্মার্টফোন থাকলেই যে কেউই মওলার মতো ছাতা নিয়েও নিজের দুইহাতই মুক্ত রাখতে পারবেন। ছাতা বহনের জন্য অন্যান্য কাজে আপোষ করতে হবে না।

We focus our attention on cutting edge autonomous cars & vehicles but as the monsoon approaches, I’m more excited by the prospect of autonomous umbrellas! pic.twitter.com/RPrtPncPuU

— anand mahindra (@anandmahindra) May 28, 2019

 

এখন গোটা বিশ্বেই স্বয়ং-চালিত গাড়ি প্রস্তুতের জন্য কাজ চলছে। তবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সেই ধরণের গাড়ি আদৌ কার্যকরী হবে কিনা তাই নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে। তবে এই ড্রোনবেলা বা ড্রোন-ছাতা বিশ্বের প্রতিটি কোনায় মানুষের কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা 'মাহিন্দ্রা'র মালিক আনন্দ মাহিন্দ্রাও জানিয়েছেন স্বয়ং-চালিত গাড়ির থেকে তিনি বেশি উত্তেজিত এই স্বয়ংক্রিয় ছাতা নিয়ে।  শুধু তিনি একাই নন, অনেক ভারতীয়ই দেশে এই ছাতার ভবিষ্যত নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, ঝড় হলে এই ছাতা থাকবে তো, নাকি ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে বেরিয়ে যাবে। প্রশ্ন এসেছে ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে কী হবে তাই নিয়েও।