চন্দ্রপৃষ্ঠে চন্দ্রযান-২-এর ল্যান্ডার বিক্রমটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের সময়ে আচমকাই মহাকাশে হারিয়ে যায়। চাঁদ থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার দূরত্ব থেকেই ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশনের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিক্রমের। এরপর ল্যান্ডার বিক্রমের খোঁজ পাওয়া গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে ইসরো। কিন্তু অরবিটারের থার্মাল ইমেজে ল্যান্ডার বিক্রমের ছবি ধরা পড়লেও তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হয় ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সেইসময়ে ইসরোকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসাও। 

শুক্রবার নাসার তরফে একটি টুইট করে জানানো হয় যে, ইসরোর তরফে ল্যান্ডার বিক্রমটি এখন কোথায় রয়েছে তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পাশপাশি, ল্যান্ডার বিক্রম চন্দ্রপৃষ্ঠের যে অংশে অবতরণের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। সেই জায়গারও ছবি প্রকাশ করেছে নাসা, যেখানে চন্দ্রপৃষ্ঠের একাধিক গহ্বর চোখে পড়েছে। টুইট করে নাসা জানিয়েছে, না সার এলআরও অর্থাৎ লুনার রিকনোসেন্স অরবিটারের সাহায্যে ছবিগুলি তোলা হয়েছিল। টুইটে আরও লেখা হয় যে, যদিও ছবিগুলি আবছা অন্ধকারে তোলা হয়েছিল, তবে এই ছবি থেকে ল্যান্ডারটি শনাক্ত করা যায়নি। নাসার তরফে বিবৃতি দিয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, পর্যাপ্ত আলোকে ফ্লাইবাইয়ের সময়ে অক্টোবর মাসে অরবিটার পুনরায় ল্যান্ডারটিকে শনাক্ত করে সঠিক চিত্র দেওয়ার চেষ্টা করবে। 

আরও পড়ুন- বিরাট দুর্ঘটনার কবলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়, ঘটনাস্থলে মৃত ২, ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রসঙ্গত চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বর তারিখে চন্দ্রপৃষ্ঠের অবতরণের আগেই ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রমের। এরপর ১৪ দিন সময় ছিল বিক্রমের হাতে যার মধ্যে সেটি চাঁদের অদেখা দক্ষিণ মেরু পরিদর্শন করতে পারত। আর সেই ১৪ দিন শেষ হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর। তারপরই চাঁদের ওই অংশ নিমজ্জিত হয়েছে অন্ধকারে। কারণ চাঁদের ওই অংশে সূর্যের আলো আর পড়বে না। আর সেই মোতাবেকই ল্যান্ডার বিক্রমটিও তৈরি করা হয়েছিল, যাতে তার আয়ু ছিল এক চন্দ্রদিবস অর্থাৎ ১৪ দিন। কারণ সৌরশক্তি ছাড়া ল্যান্ডারটি কাজ করতে অক্ষম।   

আরও পড়ুন- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমাদৃত স্বচ্ছ ভারত অভিযান, 'গ্লোবাল গোলকিপার' পুরস্কার পেলেন নমো

প্রসঙ্গত, ইসরো প্রধান কে শিবন জানিয়েছিলেন, ল্যান্ডারটির আসলে কী ত্রুটি হয়েছে, সেই বিষয়ে জাতীয় পর্যায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করছে। তাদের তরফে রিপোর্ট জমা পড়ার পরি তারা গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন। আপাতত তাঁদের মুল লক্ষ্য হল গগনযান মিশন।