তাক লাগিয়ে দিল ওশেনিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে প্রথম সংক্রমণের খবর পাওয়া যায় সবচেয়ে কঠোর লকডাউন কার্যকরী করে কিউইরা সোমবার সন্ধ্যা থেকেই দেশে করোনা সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ উঠে যাচ্ছে

ভারতে যখন প্রতিদিন রেকর্ড গড়ে বাড়ছে সংক্রমণ তখন নিজেদের করোনা ফ্রি ঘোষণা করল নিউজিল্যাল্ড। মাত্র তিন মাসেই সেখানে চলে এল সাফল্য। দেশটিতে নতুন করে কেউ মারণ ভাইরাসে সংক্রমণের শিকার হননি বলে জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তার পরেই স্বাস্থ্যমন্ত্রক ঘোষণা করল, "নিউজিল্যান্ডে আর কোভিড-১৯ আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।’

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এর ফলে নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাসের কারণে নেওয়া সকল ধরনের পদক্ষেপ মঙ্গলবার থেকে তুলে নেওয়া হবে বলে সোমবার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। দেশ থেকে ভাইরাস নির্মূল হয়ে যাওয়ার কারণেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যদিও সীমান্ত বন্ধের বিধিনিষেধ এখনও বহাল থাকবে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সোমবার মধ্যরাত থেকে জাতীয় সতর্কতা স্তর লেভেল ১ চলে যাবে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানগুলি কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই চলতে পারবে। সেবামূলক কাজগুলি স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাবে। সমস্ত গণ পরিবহন আবারও চালু হয়ে যাবে। 

দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় ফের নতুন রেকর্ড দেশের, চিনকে একাই টপকে গেল মহারাষ্ট্র

দেশজুড়ে ধর্মস্থান খুলতেই করোনা ভীতি ভুলে উপচে পড়ল ভিড়, স্রোতের বিপরীতে হাটলো ওড়িশা

আর করোনা চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নয়, এবার সতর্ক করছে অক্সফোর্ড

সোমবার (৮ জুন) সকালেই নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেদেশের শেষ কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাই বর্তমানে আর কোনো করোনা রোগী নেই নিউজিল্যান্ডে। দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মহাপরিচালক অ্যাশলে ব্লুমফিল্ড বিবৃতি দেন, সর্বশেষ যে ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তিনি এখন উপসর্গমুক্ত।

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ প্রথম করোনা রোগী পাওয়া যায় নিউজিল্যান্ডে। করোনা সংক্রমণ বিশ্বে মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কঠোর লকডাউন কার্যকরী করে নিউজিল্যান্ড। তাতেই এল সাফল্য। মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই করোনা মুক্ত হল কিউইদের দেশ। 

কারণ করোনাভাইরাসের কার্ভটি নিম্নমুখী হতে শুরু করায় গত ১৫ মে থেকে লকডাউনের নিয়মকানুন অনেকটাই শিথিল করা হয় নিউজিল্য়ান্ডে। তবে রাস্তায় বেরোলেও সাধারণ মানুষকে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতেই হত। ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডে মোট ১ হাজার ৫০৪ জন করোনা রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ২২ জন মারা গেলেও বাকি ১৪৮২ জন সুস্থ হয়েছেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।