China News: তিব্বতের (Tibet) দুর্গম অঞ্চলে নাকি গোপনে চমরি গাইয়ের ক্লোন তৈরি করছে চিন। কম খাবারে বেশি দুধ, বেশি ঠান্ডা সহ্য করার জন্য এই "সুপার ইয়াক"। কিন্তু এত গোপনীয়তা কেন? প্রশ্ন তুলছে বিশ্ব।

Tibet News: তিব্বত, যেখানে নিঃশ্বাস নিতেই কষ্ট হয়, ঠান্ডা হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়। এই দুর্গম মালভূমির মানুষের সবকিছুই নির্ভর করে একটা প্রাণীর উপর - চমরি গাই বা ইয়াক। দুধ, মাংস, পশম, জ্বালানি - জীবনের প্রতিটা প্রয়োজন মেটায় এই একটা প্রাণী। এখন শোনা যাচ্ছে, এই ইয়াককেই নাকি ল্যাবে "ক্লোন" করছে চিন। উদ্দেশ্য একটাই। এমন একটা "সুপার ইয়াক" বানানো যে কম খেয়ে বেশি দুধ দেবে, রোগ কম হবে আর মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রি ঠান্ডাতেও দিব্যি টিকে থাকবে। কাগজ-কলমে এটা খাদ্য নিরাপত্তার প্রজেক্ট। কিন্তু পুরো কাজটা হচ্ছে এত গোপনে যে বিশ্বের বিজ্ঞানমহল ভুরু কুঁচকেছে। চিনা সরকারের কয়েকটা পেটেন্ট আর গবেষণাপত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকেই এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

কেন এই ক্লোনিং?

পেটের দায়: জলবায়ু বদলের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে তিব্বতে। চারণভূমি কমছে, ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। তার উপর স্বাভাবিক ইয়াক বড় হতে সময় নেয় চার-পাঁচ বছর। এতদিন ধরে খাইয়ে লালন-পালন করা তিব্বতের কৃষকদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সমস্যা মেটাতেই নাকি ক্লোনিং আর জেনেটিক টেকনিকের সাহায্য নিচ্ছে বেইজিং। চিনের বিজ্ঞানীদের দাবি, তারা এমন ইয়াক তৈরি করতে চায় যা দুই বছরের মধ্যেই বড় হয়ে যাবে, আগের তুলনায় তিরিশ শতাংশ বেশি দুধ দেবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি থাকবে। এর ফলে তিব্বতের অর্থনীতি শক্ত হবে এবং স্থানীয় মানুষের খাবারের অভাবও মিটবে। সোজা কথায়, এটা তাদের ফুড সিকিউরিটির একটা বড় অস্ত্র।

বিজ্ঞান নাকি অন্য কিছু?

ক্লোনিং নতুন কিছু নয়। ডলি ভেড়া থেকে এখন গরু, শূকর সবই ক্লোন হয়েছে। তাহলে চিন এই প্রজেক্ট নিয়ে এত চুপ কেন? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। বিজ্ঞানীদের একাংশ বলছেন, ক্লোনিংয়ে সাফল্যের হার খুবই কম। বেশিরভাগ ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়, জন্মানো বাচ্চারাও অসুস্থ থাকে। এই ব্যর্থতার তথ্য যদি সামনে আসে তাহলে পশু নিষ্ঠুরতার অভিযোগ উঠবে। তাই চুপ করে কাজ চালানো হচ্ছে। আবার অনেকে সন্দেহ করছেন শুধু ক্লোন নয়, CRISPR এর মতো প্রযুক্তি দিয়ে জিনে হাত দেওয়া হচ্ছে কিনা। "সুপার ইয়াক" নামটা শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটা সাধারণ ক্লোন নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, তিব্বত কৌশলগতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এই ল্যাবে শুধু পশু নিয়েই গবেষণা হচ্ছে নাকি জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্য কাজও চলছে, সেই নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। চিনের বক্তব্য, এটা তিব্বতের মানুষের ভালোর জন্য, দারিদ্র্য ঘোচানোর জন্য। কিন্তু বিজ্ঞান তখনই বিশ্বাসযোগ্য হয় যখন সেটা স্বচ্ছ হয়, যখন গোটা দুনিয়া তার পদ্ধতি আর ফলাফল যাচাই করতে পারে। একটা দেশের খাদ্য সমস্যা মেটাতে ক্লোনিং কতটা জরুরি আর সেটা করতে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে কতটা ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, এই ভারসাম্যটাই এখন আসল প্রশ্ন। আর সবচেয়ে বড় ভয়, এই "সুপার ইয়াক" যদি কাল মানুষের খাবারের চেনে ঢোকে তাহলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, সেটা কেউ জানে না। উত্তর এখনও তিব্বতের বরফের নীচেই চাপা পড়ে আছে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।