সোমবার থেকে চিন পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন সীমান্ত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু, ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা প্রচার থামায়নি তারা। কিন্তু, তা করতে গিয়েই উল্টে ভারতেরই সুবিধা করে দিল বেজিং। মে মাসের শুরু থেকেই সীমান্তের ভারতীয় অংশে ভারতীয় সেনাদের বৈধ তৎপরতায় বাধা দিয়েছিল চিন সেনা, এই ভারতীয় দাবিই প্রতিষ্ঠা পেল।

সোমবার রাতে চিনের সরকারি টেলিভিশনে নতুন করে কিছু উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করা হয়। সিসিটিভি-৪ চ্যানেলে দেখানো, ওই উপগ্রহ চিত্রে দাবি করা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পেট্রোল পয়েন্ট ১৪-এ গালওয়ান নদীর পাশে ভারতীয় অংশে ভারতীয় সেনা একটি হেলিপ্যাড এবং শিবির গড়ে তুলেছে। তবে ছবিগুলি সত্যতা যাচাই করা যায়নি এবং চিনা টেলিভিশনের পক্ষ থেকে দেখানো সেই উপগ্রহ চিত্রে কোনও তারিখের উল্লেখও নেই।

এর আগে ২২ মে যে উপগ্রহ চিত্র সামনে এসেছিল তাতে ওই এলাকায় কোনও সামরিক কার্যকলাপ দেখা যায়নি। গালওয়ান নদীর বাঁকে একটি সাদা রঙের ছোট্ট কুটির দেখা গিয়েছিল। এরপর ১৬ জুন ওই এলাকাতেই আগের রাতের মারাত্মক সংঘর্ষের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিভিন্ন কাঠামোর ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সঙ্গে বিশাল সংখ্যায় চিনা সেনার উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু হেলিপ্যাড চোখে পড়েনি। ২৫ জুনের পরের উপগ্রহ চিত্রগুলি গালওয়ান নদীর বাঁকে বাঁকে উল্লেখযোগ্য চিনা নির্মাণ চোখে পড়েছিল।

এর আগে বিদেশ মন্ত্রক থেকে দাবি করা হয়েছিল, চিন সেনাই গালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলে ভারতের স্বাভাবিক, টহলদারি রোধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছিল। চিনা টেলিভিশনে প্রচারিত নতুন চিত্রগুলি যদি সত্যি হয় তবে তাতে প্রমাণিত হয় যে চিনা সেনাই ভারতীয় সেনার কার্যকলাপে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। যার কারণেই পরবর্তী চিত্রগুলি থেকে নিখোঁজ রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ওই হেলিপ্যাড-টি। এছাড়া এলাকাটি চিনেরই দাবি করা ১৯৬০ সালের সীমান্তরেখা ছাড়িয়ে ভারতের দিকে ৪২৩ মিটার ভিতরে অবস্থিত। কাজেই ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাতে গিয়ে চিন ভুল করে ভারতের দাবিতেই সম্মতি দিল। ভারত চিনে গিয়ে হামলা চালায়নি। চিন সেনাই ভারতীয় সেনার টহলদারীতে বাধা দিয়েছিল।