মনে আছে পাকিস্তানের সেই চিকিৎক শাকিল আফ্রিদির কথা। সেই পাকিস্তানের চিকিৎসক যিনি মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার  গোয়েন্দাদের হদিশ দিয়েছিলেন আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের। সালটা ছিল ২০১১ শাকিল আফ্রিদি একটি ভুয়ো টিকাকরণ অভিযানের নাম করে ঢুকে পড়েছিলেন অ্যাবাটাবাদের উঁচু প্রাচির দেওয়া বাড়িতে। যেখানে পরিবার নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে বাস করতে বিশ্বের ত্রাস আল কায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেন। যার হদিশ পেতে দিন রাত এক করে ফেলেছিল সিআইএ। শাকিল আফ্রিদি চিনিয়ে দিয়েছিলেন লাদেনকে। তারপরেটা তো ইতিহাস। রাতের অন্ধকারে মার্কিন সেনাদের হাতে নিহত হয় লাদেন। 

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে বিপাকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুবাইয়ের শেফ

কিন্তু সেই শাকিল আফ্রিদি বর্তমানে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের একটি জেলে বন্দি। জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও ডাক্তার শাকিল আফ্রিদির কথায় কান দেয়নি পাক প্রশাসন। ৩৩ বছরের জন্য কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে জেলে বসেই অনশন শুরু করেছেন শাকিল। 

জেল বন্দি শাকিলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই জামিল। তিনিই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন,  নিজের ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে অবিচার ও অমানবিক অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতেই জেলে বসেই অনশন শুরু করেছেন শাকিল। শাকিলের পরিবার সূত্রের খবর, আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয় না। সাজার বিরুদ্ধে আবেদন জানাতেও পারছে না তাঁরা। পরিবারকেও নানা অজুহাতে হয়রান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। 

আরও পড়ুনঃ ইরানে করোনার বলি ৬৬, লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন

মার্কিন আইনজীবীরা জানিয়েছেন ওসামাকে চিনিয়ে দিয়ে সিআইএকে সাহায্য করেছিলেন শাকিল। তাই তাঁর বিরুদ্ধে বদলা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রচারে বেরিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প শাকিল আফ্রিদির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলে পাক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনবেন শাকিলকে। সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। জেলেই দিন কাটছে ডাক্তারের। 

আরও পড়ুনঃ দলজিতের সঙ্গে তাজ দর্শন থেকে সাইকেলে চড়ে ভ্রমণ, ভারতীয়দের সৃজনশীলতায় মুগ্ধ ইভাঙ্কা

সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তান অলাভজন সংস্থার তদন্ত করছে। বেশ কয়েকটি সংস্থাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। সূত্রের খবর এই সংস্থাগুলি গুপ্তচর বৃত্তির সঙ্গে যুক্ত। এই জাতীয় সংস্থার মাধ্যমেই কাজ করেছিলেন শাকিল আফ্রিদি। তেমনই আশঙ্কা করছে পাক প্রশাসন।