সৌদি আরব সূত্র জানা গিয়েছে, হজ যাত্রার সময় গ্রেফতার হওয়া ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের। 

আর্থিক অবস্থায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান। এই অবস্থায় পাকিস্তানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল বন্ধু দেশ পাকিস্তান। কারণ হজ কোটার প্রার্থী বাছাই নিয়ে ইতিমধ্যে সৌদি আরব সরকার পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে। সৌদির বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের একটি বৈঠকের পরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে। বলা হয়েছে পাকিস্তান যেন হজ যাত্রায় দেশের ভিখারি ও পকেটমারদের না পাঠায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সৌদি আরব সূত্র জানা গিয়েছে, হজ যাত্রার সময় গ্রেফতার হওয়া ভিক্ষুকদের মধ্যে ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের। যারা ওমরাহ ভিসায় পাকিস্তান থেকে সৌদি আরব গিয়েছিল। হজযাত্রার মত পবিত্র অনুষ্ঠানে যেন ভিখেরি , পকেটমার, ছিঁচকে অপরাধীদের পাঠান না হয় তার জন্য পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রককে সতর্ক করা হয়েছে। তবে আগেই এজাতীয় অপরাধীদের সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি। সৌদির বিদেশমন্ত্রক আরও বলেছে, 'আমাদের কারাগারগুলি আপনাদের বন্দিদের দিয়েই ভর্তি হয়ে গেছে।' সৌদি পাকিস্তান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছে, মক্কা,মসজিদের আল-হারামের কাছে থাকা সমস্ত পকেটমারও পাকিস্তানের নাগরিক।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, সৌদি আরব পাকিস্তানের এইজাতীয় কাজে খুবই ক্ষুব্ধ। পাকিস্তানের দুর্বৃত্তরা আরবের ভিসা নিয়ে মক্কা সফরে যায় না। তারা ওমরাহ ভিসায় যায়। তার কারণ হল সৌদি সরকার বা স্থানীয়রা পাকিস্তানের মানুষকে সেখানে কাজ দিতে চায় না। পাকিস্তানের শ্রমিকদের তারা দক্ষ শ্রমিক হিসেবেও মনে করে না। কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের মানুষদের সৌদি দক্ষ শ্রমিক হিসেবে মনে করে। তাই ছদ্মবেশে পাকিস্তানের শ্রমিকাই ওমরাহ ভিসায় সে দেশে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ সৌদির।

হজ যাত্রা উলক্ষ্যে প্রচুর ভিড় হয় সৌদি আরবে। বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকেই তীর্থযাত্রীরা আসেন মক্কা ও মদিনা দর্শনে। ভিড় সামলাতে কড়া ব্যবস্থা করে সৌদি সরকার। সেই কারণে হজ কোটাও চালু রয়েছে। এই হজ কোটার মাধ্যমে সৌদি সরকার নির্দিষ্ট করে দেয় কোনও কতজনকে পাঠাতে পারবে। কোন কোন হজ উপলক্ষ্যে কতজন তীর্থযাত্রীকে সৌদি পাঠাতে পারবে তাই সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে আগে থেকেই জানাতে হয়। কোটার মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য়ও দেওয়া হয়। এই কোটার সুযোগ নিয়েই পাকিস্তান থেকে বহু সময় সৌদি গিয়েছে ভিখারি ও পকেটমাররা। যা বরদাস্ত করতে রাজি নয় সৌদি সরকার। এই ঘটনা আগেও ঘটেছে। তখনও পাক সরকারকে সতর্ক করেছে সৌদি সরকার।