পিছনে মিশরের বিখ্যাত জোসারের পিরামিড। তার সামনে হেঁটে আসছেন এক মডেল। শরীরে রয়েছে প্রাচীন মিশরীয়দের মতো পোশাক। আর তার ফাঁক দিয়ে উপচে পড়ছে যৌবন। এমনই এক ফটোশ্যুটের জেরে ওই মডেল এবং ফটোগ্রাফার কে আটক করেছিল মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের দুজনকেই মুক্তি দেওয়া হলেও এই ঘটনা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কায়রো থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাক্কারা নেক্রোপলিসে সপ্তাহখানেক আগে করা হয়েছিল ওই ফটোশ্যুট। পিরামিডের সামনে পোজ দিয়েছিলেন সালমা আল-শিমি নামে এক মিশরীয় মডেল। আর ফটোশ্যুটটির পরিকল্পনা করেছিলেন ফটোগ্রাফার হুসাম মহম্মদ। গত সপ্তাহে নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে ওই ফটোশ্যুটের একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেছিলেন শিমি। জোসারের ৪,৭০০ বছরের পুরোনো স্টেপ পিরামিডের পাদদেশে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এরপরই, চলতি সপ্তাহের সোমবার শিমি ও ফটোগ্রাফার হুসাম মহম্মদ, দুজনকেই আটক করেছিল মিশরীয় পুলিশ।

'মিশরের প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পোশাক পরার অভিযোগ করা হয়েছিল শিমির বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে ওই ফটোশ্যুটে মিশরীয় পুরাকীর্তি মন্ত্রকের বিধিও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েচে। মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সাক্কারা প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে অনুমোদন ছাড়াই তাঁরা ছবি তুলছিলেন। মঙ্গলবার অবশ্য দুজনকেই ৫০০ মিশরীয় পাউন্ডের বিনিময়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। মিশরের পর্যটন মন্ত্রক জানিয়েছে, মিশরের অ্যানসিয়েন্ট অ্যান্টিকুইটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি-জেনারেল মোস্তাফা ওয়াজিরি-ই প্রথম ছবিগুলি 'অনুপযুক্ত' বলে অভিযোগ করেছিলেন। ওয়াজিরি বলেছেন, 'প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান এবং মিশরীয় সভ্যতার ক্ষতি করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।'

তবে এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই মডেলের ফ্যানের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁদের অনেকের কাছেই ঘটনাটিকে একেবারে অবিশ্বাস। প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় ছবি তোলার বিষয়ে আদৌ কোনও নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা তাই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অনেকেই আবার বলেছেন, শিমির ছবিগুলি একেবারেই অশ্লীল নয়, এই ধরণের পোশাকই প্রাচীন মিশরে ব্যবহার করা হতো। কাজেই পিরামিডের প্রেক্ষাপটে এই পোশাককে একেবারে স্বাভাবিকই বলা যায়। মিশরে এর আগে এতটা রক্ষণশিলতা দেখা যায়নি বলেই দাবি করেছেন তাঁরা।