ডিসেম্বরের শেষে ব্রিটেনে বিশ্বের প্রথম কোভিড টিকা হিসাবে অনুমোদন পেয়েছিল ফাইজা-বায়োএনটেক দুই সংস্থার  যৌথ গবেষণায় বিকশিত কোভিড ভ্যাকসিন। তারপর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন অনুমোদন পাচ্ছে। অনেক জায়গাতেই প্রশ্ন উঠছে টিকাগুলিকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বড় তাড়াহুড়ো করে ফেলছে না তো? টিকাগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় ঠিকঠাক খতিয়ে দেখা হচ্ছে তো? পর্তুগালের এক ঘটনা, মঙ্গলবার বিশ্ব জুড়ে ফের সেই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো করে দিল।

ভারতের মতো বিভিন্ন দেশেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে একেবারে সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদেরই সকলের আগে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপিয় ইউনিয়ন ফাইজার-বায়োএনটেক'এর টিকাকে ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়ার পরই পর্তুগালে টিকাকরণ শুরু হয়েছিল। কিন্তু, সেই টিকা গ্রহণের দু'দিন পরই মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে সেই দেশের পোর্তো শহরের এক নার্সকে। পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অব অঙ্কোলজি বিভাগের শিশুরোগ শাখায় কাজ করতেন সনিয়া আচেভেদো। টিকা নেওয়ার পর ৪১ বছরের এই মার্সের দেহে কোনও প্রতিকূল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও ছিল না বলে জানা গিয়েছে।

সনিয়া-র বাবা অ্যাবিলিও আচেভেদো ,স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে একেবারে সুস্থ ছিলেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও সমস্যা ছিল না তাঁর। কোভিড-১৯ টি ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও দৃশ্যত কোনও প্রতিকূল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না। তাও কীভাবে তাঁর মেয়ের মৃত্য়ু হল, বুঝে পাচ্ছেন না শোকগ্রস্ত হতভাগ্য বাবা। তিনি বলেছেন, 'আমি শুধু উত্তর চাই। আমি জানতে চাই, আমার মেয়ের মৃত্যুর কারণ কী।' সনিয়া-র বাবা আরও জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে কখনও মদ্যপানও করতেন না। মাদকের নেশা বা উল্টোপাল্টা খাবার-দাবার খাওয়ারও ঝোঁক ছিল না। খুবই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতেন সনিয়া।

কীভাবে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর আকস্মিক মৃত্যু হল, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পর্তুগিজ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তারা হলেছে, পোর্তো শহরে মোট ৫৩৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য ফ্রন্টলাইনারকে এখনও পর্যন্ত ফাইজার-বায়োএনটেক'এর তৈরি কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অন্য কারোর এখনও কোনও প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া হয়নি। এই অবস্থায় ওই নার্সের মৃত্য়ু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তাঁর মৃত্য়ুর সঙ্গে সত্যিই টিকার কোনও সম্বন্ধ আছে কি না, সেই বিষয়ে তদবন্ত করা হচ্ছে।

মাত্র ১০ কোটির সামান্য বেশি জনসংখ্যার দেশ পর্তুগালে, করোনা মহামারির কারণে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭,১১৮ জনের। আর কোভিডে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪,২৭,০০০-এরও বেশি।