রাশিয়ান করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে ক্রমশই আশঙ্কার কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। তড়িঘড়ি প্রতিষেধক তৈরি করা হয়েছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে। এবার যা অভিযোগ উঠেছে তা আরও ভয়ঙ্কর। কারণ ২৬ জন বিজ্ঞানী  অভিযোগ করেছেন প্রতিষেধকের ট্রায়াল রানের তথ্যেই গরমিল রয়েছে। যে তথ্য় প্রকাশিত হয়েছে তা রীতিমত আযৌক্তিক বলেও দাবি করা হয়েছে। এই মর্মে তাঁরা তাঁরা একটি খোলা চিঠি লিখেছেন দ্যা ল্যানসেট নামের একটি মেজিক্যাল জার্নালে। অভিযোগকারী অধিকাংশ বিজ্ঞানী ইতালির বাসিন্দা। বিজ্ঞানীদের অভিযোগ প্রথম ও দ্বিতীয় ট্রায়াল রানের যে তথ্য তাঁদের হাতে গেছে সেখানে একাধিক স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি স্তর নিয়ে গরমিল রয়েছে। 

করোনা সংক্রমণ রুখতে নতুন নিয়ম, নেগেটিভ হলেও আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক ...
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিঠিতে বলা হয়েছে সাধারণ সম্ভাব্য মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সংরক্ষিত অনেক তথ্যই রয়েছে যেটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে পুরো বিষয়টি অযৌক্তির। একই সঙ্গে চিঠিতে বলা হয়েছে মূল সংখ্যাগত তথ্যের অভাব ধরা পড়েছে। সংখ্যা নিয়ে গরমিলও রয়েছে তথ্যে। আর সেই কারণে নির্দিষ্ট কোনও স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কিছুটা হলে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক নিয়ে সেরামকে শো-কজ, কোভিশিল্ডের গলদ জানতে চাইল ডিজিআইসি

ভারতীয় পড়ুয়াদের জন্য চিনের দরজা বন্ধ, আশঙ্কার কালো মেঘ জমছে শিক্ষার আকাশে ...

তবে রাশিয়ার গামালিয়া ইনস্টিটিউ এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত ফালাফলটি খাঁটি আর নির্ভুল বলেই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন পরীক্ষার পুরো তথ্যই ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনও তথ্যই গোপন করা হয়নি। তবে জন হপকিন্সি ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলফের উপ পরিচালক নাওর বার জিভ  রাশিয়ার তৈরি প্রতিষেধকের সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করেছেন তিনি গবেষণার বিশ্লেষণকেই সমর্থন করেছেন। রাশিয়ার প্রতিষেধকের পরীক্ষার ফলাফল প্রশংনীয় বলেই  জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পর সন্দেহজনক কোনও কিছুই দেখতে পারননি। অন্যদিকে রাশিয়া ইতিমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছে। চলতি বছর জুন ও জুলাই মাসে ৭৬ জন অঁশ নিয়েছিল এই পরীক্ষায়। রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানিয়েছেন তৃতীয় পর্যায়ের পরিক্ষার জন্য  প্রায় ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে।