পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও বাড়ছে। আমেরিকার তরফে ইরানের বিরুদ্ধে B-52 বিমান দিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনও ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছে। এর জবাবে ইরানের IRGC আমেরিকার সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ওই অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে সেনা সরানোর দাবি জানিয়েছেন।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের বায়ুসেনার একটি B-52 স্ট্র্যাটোফোরট্রেস বিমান ইরানের বিরুদ্ধে রাতের অভিযানে নেমেছে। 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের 'শাসনব্যবস্থার' তৈরি করা বিপদ দূর করা এবং ভবিষ্যতে দেশটির ক্ষমতা পুনর্গঠনে বাধা দেওয়া। CENTCOM আরও জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর এই হামলাগুলি অপ্রত্যাশিত, গতিশীল এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং বাড়তে থাকা সংঘাত
পশ্চিম এশিয়ায় এই সংঘাত ক্রমশই বাড়ছে। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরান একে অপরের তেল ও গ্যাসের মতো শক্তির উৎসগুলিতে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পাঠানোর কথা ভাবছেন। শনিবার 'দ্য টেলিগ্রাফ' সংবাদপত্রের একটি রিপোর্টে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা পূর্ব ইউরোপের জন্য তৈরি অত্যাধুনিক সরঞ্জাম এই নতুন আঞ্চলিক প্রয়োজনের জন্য ব্যবহার করা যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে, ইউক্রেনকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করার জন্য ব্রিটেনে তৈরি 'অক্টোপাস' ইন্টারসেপ্টর অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ইরানের শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের সুরক্ষা জোরদার করতে ব্যবহার করা হতে পারে।
ব্রিটেনের এই ড্রোন পাঠানোর ভাবনার মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি আর্জি জানিয়েছেন। তিনি ব্রিটেন এবং অন্যান্য সহযোগী দেশগুলিকে হরমুজ প্রণালীর জলপথ সুরক্ষিত রাখতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য বলেছেন।
'ট্রু প্রমিস ৪' অভিযানে ইরানের পালটা হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) পালটা জবাব দিয়েছে। তারা 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর ৫১তম পর্যায়ে ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলির উপর ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ।
IRGC জানিয়েছে, এই নতুন পর্যায়ের হামলায় তরল-জ্বালানি এবং কঠিন-জ্বালানি, দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলি সৌদি আরবের আল খারিজ বিমান ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন 'জঙ্গি' সেনা বাহিনীর উপর নিক্ষেপ করা হয়।
আঞ্চলিক সুরক্ষার জন্য আমেরিকাকে সরে যাওয়ার দাবি ইরানের
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে হলে আমেরিকাকে পশ্চিম এশিয়া ছাড়তে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা যখন বাড়ছে, তখনই তিনি এই মন্তব্য করলেন। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, "এক কথায় বলতে গেলে: এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে হলে আমেরিকাকে এখানে থাকা চলবে না।"
এই সংঘাতের শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও কমান্ডার নিহত হন। তারপর থেকেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিদিন ইজরায়েল অধিকৃত এলাকা এবং ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি ও সম্পত্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।


