বড়সড় গাফিলতি ধরা পড়ল খোদ বিশ্বব্যাঙ্ক-এর অন্দরে। প্রতিবছর 'ইজ অব ডুইং বিজনেস' বা ব্যবসায়িক স্বাচ্ছন্দ্যের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের সমস্ত দেশের ক্রমতালিকা তৈরি করে তারা। অন্তত দুই বছরের তালিকায় চিন এবং আরও তিনটি দেশের স্কোর এবং ক্রম পরিবর্তন করল এই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা। অযৌক্তিকভাবে রেটিং পরিবর্তনের জন্য ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাঙ্কের কর্মীদের উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে তদন্ত করবে সংস্থা। এই ব়্যাঙ্কিং-এর উপর কর প্রদানের হার এবং ঋণ পাওয়ার পরিমাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে।

বুধবার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের যে ইজ অব ডুইং বিজনেস তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে চিন, ২০১৭ সালের মতোই ৭৮ তম স্থানে ছিল। কিন্তু সংশোধিত তালিকা বলছে চিন ৭ ধাপ নেমে গিয়েছে। তার ক্রম এখন ৮৫। আবার ২০২০ প্রতিবেদনের যে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা বলছে এই বছরের সেরা অর্থনৈতিক উন্নতিকারী দেশ মোটেই সৌদি আরব নয়। বরং আজারবাইজান এই বিষয়ে সেরা দশে উঠে এসেছে। একই তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির র‌্যাঙ্কিং (১৬তম) অপরিবর্তিত থাকলেও, স্কোরটি কিছুটা কম হওয়া উচিত ছিল।

এতদিন এই ভুলগুলি সকলের চোখ এড়িয়ে গেলেও বিশ্বব্যাঙ্কের উন্নয়নশীল অর্থনীতি বিভাগ এই অনিয়মগুলি ম্যানেজমেন্টের নজরে এনেছিল। চলতি বছরের ২৭ অগাস্ট থেকে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের সময় ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট তৈরির দলের সদস্যরা একযোগে জানিয়েছেন, ২০১৮ এবং ২০২০ সালের রিপোর্ট-এ তথ্য অদলবদল করার জন্য প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তাদের উপর চাপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কারা, কী উদ্দেশ্যে সেই চাপ দিয়েছে, তা এখনও বের করা যায়নি। বস্তুত, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, এই র‌্যাঙ্কিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৮ সালেই চিলির নির্দেশে ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে তথ্য পরিবর্তন করার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন পল রোমার।