দলাই লামা এবং তিব্বত নিয়ে বিল পাস মার্কিন কংগ্রেসেস্বাগত জানালো তিব্বতের নির্বাসিত সরকারতবে চিন বলেছে এটা অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপএতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও খারাপ হবে বলে দাবি করা হয়েছে 

মঙ্গলবার আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার তিব্বতীদের অধিকারকে নিশ্চিত করে, বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের প্রধান এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ চিন। চিনের চোখে নির্বাসিত বৌদ্ধ নেতা দলাই লামা একজন বিপজ্জনক 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' নেতা। বাণিজ্য, তাইওয়ান, মানবাধিকার, হংকং, দক্ষিণ চীন সাগর এবং করোনভাইরাস সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ সেই উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তিব্বতের নির্বাসিত সরকার হিসাবে পরিচিত সেন্ট্রাল টিবেট অ্যাডমনিস্ট্রেশন বা তিব্বত কেন্দ্রীয় প্রশাসনের প্রেসিডেন্ট লবসং সাঙ্গে বলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের নেওয়া এই পদক্ষেপ 'ঐতিহাসিক'। তবে চিনা বিদেশ মন্ত্রক এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। এই আইনে স্বাক্ষর করার বিষয়ে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে। এতে করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও ক্ষতি হবে বলে জানানো হয়েছে। চিন বলেছে, দলাই লামার উত্তরসূরি অনুমোদনের অধিকার রয়েছে চিনের নেতাদেরই।

মার্কিন আইনে বলা হয়েছে, তিব্বত-কে পৃথক দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানকার প্রধান শহর লাসায় মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করা হবে। দলাই লামার উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার তিব্বতীদের পরম অধিকার। তিব্বতের পরিবেশ সংরক্ষণের আহ্বানও জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে তিব্বতীদের সঙ্গে চিনের আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিলে চিন সরকার এবং দলাই লামার মধ্যেও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

১৯৫০ সালে চিন সেনা তিব্বতে 'পিসফুল লিবারেশন' বা 'শান্তিপূর্ণ মুক্তি' নামে একটি অভিযান চালিয়ে তিব্বতের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। সেইসময় থেকেই তিব্বত অঞ্চল চিনের অন্যতম সংবেদনশীল অঞ্চল। ১৯৫৯ সালে চিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করেছিলেন দলাই লামা। সেই বিগ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর অনুগামীদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দলাই লামা ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। তারপর থেকে ধর্মশালায় তিনি অবস্থান করছেন এবং সেখানেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নির্বাসিত তিব্বত সরকার।