মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করোনাভাইরাসের পরীক্ষামূলক ওষুধ রেমডেসিভির ওষুধের প্রথম টায়াল ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-এর ওয়েবসাইটে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ায় দুনিয়া জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যেই নতুন করে আশার আলো দেখাল ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি সপ্তাহেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা শুরু হয়েছে ব্রিটেনে। অক্সফোর্ডের গবেষকরা আশাবাদী, সবকিছু ঠিকঠাক চললে চলতি বছর সেপ্টেম্বরেই বেরিয়ে যাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন। 

তবে ব্রিটেনের আগে আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথও করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন মানব দেহে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রয়োগ করেছে। মার্কিন মুলুকে প্রথম এই টিকা দেওয়া হয়েছিল জেনিফার হেলার নামে ৪৩ বছরের এক মহিলাকে। সিয়াটলের বাসিন্দা ওই মহিলা ২ সন্তানের মা হওয়ার পাশাপাশি এক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সংস্থায় অপারেশনস ম্যানেজার। আমেরিকার মত ব্রিটেনেও করোনাভাইরাসের প্রথম টিকা নিলেন এক মহিলা। তিনি আবার পেশায় বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাতো। এলিসা ছাড়াও গত বৃহস্পতিবার আরও একদনের শরীরে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। 

 

ভ্যাকসিন নেওয়ার পর সাহসী এলিসা বলেন, “আমি নিজেও একজন বিজ্ঞানী। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে গর্বিত। ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে যেমনভাবে দরকার পড়বে আমি সাহায্য করব।”

 

 

জানা যাচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি কার এই ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগ করার জন্য ৮০০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দুজনের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই ভ্যাকসিন। এরপর আরও বেশ কয়েকজনকে একসঙ্গে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। বাকি কয়েকজনকে  দেওয়া হবে কন্ট্রোল ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করবে না, তবে মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে কাজ করে।  কার শরীরে কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে সেটা আগে থেকে জানানো হবে না সেচ্ছাসেবীদের।  ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে সকলকেই।

ভারতেও শুরু হচ্ছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, অক্টোবরের মধ্যেই বাজারে ভ্যাকসিন আসার সম্ভাবনা

শিথিল হল লকডাউনের নিয়ম, দেশে খুলছে অত্যাবশ্যকীয় ছাড়াও সব দোকানপাট

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা টপকে গেল ২৪ হাজারের গণ্ডি, নজরদারিতে রয়েছেন প্রায় ১০ লক্ষ

তিন মাসের চেষ্টায় এ ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দল। ১০ জানুয়ারি থেকেই করোনাভাইরাসের প্রতিরোধী ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক-বিজ্ঞানী সারাহ গিলবার্ট। সারহাকে যোগ্য সহায়তা করেছেন  অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। 

জেন্নার ইনস্টিটিউট ভাইরোলজি বিভাগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের। এখন পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনের নাম রাখা হয়েছে ‘চ্যাডক্স ১’ ভ্যাকসিন। গত মার্চেই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হয়েছে ভ্যাকসিনটির। তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে এখন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০ লাখ প্রতিষেধক তৈরির প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন অক্সফোর্ডের গবেষকরা। বিজ্ঞানী দলের সদস্য অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল জানিয়েছেন, বিশ্বের সাতটি জায়গায় এই প্রতিষেধক তৈরির কাজ চলছে। প্রস্তুতকারী অংশীদার হিসেবে রয়েছে ব্রিটেনের তিনটি সংস্থা, ইউরোপের দুটি, চীনের একটি এবং ভারতের একটি সংস্থা। ব্রিটেন ছাড়াও আমেরিকা এবং চীনের দুটি সংস্থাও এ প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করেছে।