আন্তর্জাতিক আদালত, ইন্টারন্য়াশানাল কোর্ট অব জাস্টিস বৃহস্পতিবার মায়ানমার সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল,  ওই দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ ভীষণ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তাই তাদের সুরক্ষায় যথযথ ব্য়বস্থা নিয়ে ও গণহত্য়া বন্ধ করতে হবে।

নেদারল্য়ান্ডসের হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায়তে মুখ পুড়েছে মায়ানমার সরকারের। সেইসঙ্গে, রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অভিযোগেও কার্যত সিলমোহর পড়েছে।

প্রসঙ্গত মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্য়া চালানোর অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক  ন্য়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেছিল গাম্বিয়া। মামলার আবেদনে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের গণহত্য়া রীতি লঙ্ঘন করেছে মায়ানমার সরকার। যদিও ওই আদলতে অংশ নিয়ে মায়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে স্টেট কাউন্সিলর অন সান সুচি অংশ নেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্য়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানের সময়ে কিছু আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বটে, তবে সেই ঘটনাগুলোকে বিচারের আওতায় আনবে সরকার।

এদিকে, গাম্বিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে অংশ নেন সেখানকার বিচারমন্ত্রী আবুবাকার তাম্বাদু। সেখানে তিনি স্পষ্ট বলেন, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মায়ানমার সরকারের ওপর আস্থা রাখা যায় না। তাই গণহত্য়া বন্ধে যেন আন্তর্জাতিক আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়।

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণেই কারণে গত কয়েকবছর অসংখ্য় রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। সেখান থেকে আবার অনেক ভারতেও আসে। শুধু রাষ্ট্রীয় নির্যাতনই নয়, সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা মহিলাদের ওপর ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে আকছার, অভিযোগ মানবাধিকার কর্মীদের। ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতনের মুখে সাড়ে সাতলাখ সীমান্ত পেরিয়ে চলে আসে। যাদের মধ্য়ে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে ভারতের নানা জায়গায় ঢুকে পড়ে। হুগলির হাড়দহে রোহিঙ্গাদের একট কলোনি গড়ে ওঠে। দিল্লিতেও গড়়ে রোহিঙ্গাদের কলোনি। যেখানে অস্বাস্থ্য়কর অবস্থায় কোনওভাবে মাথা গুজরান করছে অসংখ্য় রোহিঙ্গা পরিবার। এদিকে ভারত সরকার বরাবরই  রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ওই দুঃস্বপ্নের মধ্য়ে তারা আর ফিরে যেতে চায়নি।