পিতামাতার সন্তান শোকের মতো শোক গোটা বিশ্বে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ডাকোটা শহরের বাসিন্দা জন এবং স্টেফানি রিড-কেও এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁদের ১৬ বছরের পুত্র সন্তানের। এক বছর পর এক টেবি বিয়ার (খেলনা ভালুক)-এর বুকে ফের তাঁরা শুনতে পেলেন তাঁদের মৃত সন্তানের হৃৎস্পন্দনের আওয়াজ। সেই ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যাঁরাই দেখছেন এই ভিডিও, আবেগে আর্দ্র হয়ে আসছে তাঁদের চোখ।

ভিডিওটি অবশ্য নতুন নয়। গত মার্চ মাসেই টুইটারে এই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছিল। বছরের শেষে সেই ভিডিও আরও একবার ভাইরাল হয়েছে। জানা গিয়েছে ভিডিওটি রেকর্ড করেছিলেন জন রিডের স্ত্রী স্টেফানি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জন একটি উপহারের বাক্স খুলছেন। তার ভিতরে একটি চিঠি-সহ একটি টেডি বিয়ার ছিল। সেই টেডি বিয়ারের বুকে কান রাখতেই শোনা যায় তাঁর মৃত ছেলের হৃৎস্পন্দনের আওয়াজ। তা শুনে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি জন। স্ত্র স্টেফানিকে ভিডিও রেকর্ড করা বন্ধ করার ইঙ্গিত করেন।

না, এটা কোনও জাদু নয়। বিষয়টা হল, গাড়ি দুর্ঘটনায় পুত্রের মৃত্যুর পর তার সমস্ত অঙ্গই দান করেছিলেন জন ও স্টেফানি রিড। তারমধ্যে তাঁদের পুত্রের হৃৎপিণ্ডও ছিল। যা পেয়ে প্রাণ রক্ষা হয়েছে বব নামে এক ব্যক্তির। ববই হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের পর জন রিড-কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁর হৃৎস্পন্দনের শব্দ টেডি বিয়ার-এ (এক ধরণের খেলনা টেডি বিয়ারে পছন্দের শব্দ বা কথা রেকর্ড করা যায়) রেকর্ড করে উপহার হিসাবে পাঠিয়েছেন। তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন, তিনি নিজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে জনকে তাঁর মৃত পুত্রের হৃৎপিণ্ডের শব্দ শোনাতে চান। কিন্তু, তা করে সম্ভব হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই তিনি এই টেডি বিয়ারের মারফতই সেই শব্দ পৌঁছে দিলেন জনের কাছে। উল্লেখ্য সেই টেডি বিয়ার-টির গায়ে যে টি-শার্টটা ছিল, তাতে লেখা ছিল  লেখা 'বেস্ট ড্যাড এভার', অর্থাৎ সর্বকালের সেরা বাবা।

টেডি বিয়ার-টি উপহার পাওয়ার পর আবেগ বিহ্বল বাবা জন রিড জানিয়েছেন, এরকমটা হতে পারে তিনি কখনও আশাই করেননি। এই উপহার পেয়ে আনন্দে হৃদয় ভরে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতি রাতেই বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে ওই টেডি বিয়ারের বুকে মাথা রেখে তিনি তাঁর সন্তানের হৃৎস্পন্দনের আওয়াজ শোনেন বলেও জানিয়েছেন। আর পুত্রের মৃত্যুর পরও এই অপ্রত্যাশিত ঘনিষ্ঠতাটুকু পেয়ে তিনি বব-কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।