রবিবার ভারতে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। ইতিমধ্য়েই কেন্দ্রীয় সরকার তুরস্ক থেকে ১১০০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। শোনা যাচ্ছে আরও কয়েক হাজার টন পেঁয়াজ আনা হবে মিশর থেকে। সেটা যে সে পেঁয়াজ নয়, একেবারে 'ইজিপ্সিয়ান ওয়াকিং অনিয়ন' বা 'মিশরিয় হাঁটাহাঁটি পেঁয়াজ'। প্রশ্ন হল কি এই মিশরিয় হাঁটি হাঁটি পেঁয়াজ? এই পেঁয়াজ কি হাঁটাচলা করে নাকি?

এই পেঁয়াজের কথা সংসদে দিন কয়েক আগে তুলেছিলেন এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে তিনি বলেছিলেন, ইজিপ্সিয়ান ওয়াকিং অনিয়ন খেতে তিনি পছন্দ করেন না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী কি ওই পেঁয়াজ খান, প্রশ্ন ছুড়েছিলেন শরদ পওয়ারের কন্যা। এর উত্তরেই অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন তাঁদের বাড়িতে পেঁয়াজ রসুন ঢোকে না।  যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে।

সাধারণ পেঁয়াজের থেকে কিন্তু কিছুটা হলেও আলাদা এই 'ইজিপ্সিয়ান ওয়াকিং অনিয়ন'। সাধারণ পেঁয়াজ যেমন গাছের গোড়ায় হয়, তেমনটা ইজিপ্সিয়ান ওয়াকিং অনিয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এই পেঁয়াজ ধরে গাছের আগায়। আর জন্মের এই প্রকার ভেদের মধ্য়েই লুকিয়ে রয়েছে এর নামকরণের তাৎপর্য। গাছের আগায় ধরা পেঁয়াজ নিজে থেকেই মাটিতে ঝরে পড়ে গাছের আশপাশে প্রায় ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত এলাকা জুড়ে। তার থেকে জন্ম নেয় নতুন গাছ। ফলে মনে হয় গাছটি যেন নিজে থেকেই এক জায়গা থেকে সরে অন্যত্র এগিয়ে গেল। এই কারণেই একে 'ওয়াকিং অনিয়ন' বা 'হাঁটাহাঁটি পেঁয়াজ' বলে।

তবে এই ধরনের হাঁটাচলা করা পেঁয়াজ গাছ মিশর ছাড়াও বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশে হয়। তাহলে একে মিশরিয় পেঁয়াজ বলে ডাকা হয় কেন? বিশেষজ্ঞ মহলের মতে এর পিছনে রয়েছে প্রচীন মিশরিয় বিশ্বাস। ঐতিহাসিকরা জানিয়েছেন প্রাচীন মিশরে যেমন বিভিন্ন পশুপাখির উপাসনা করা হত, তেমনই ধর্মীয় ক্ষেত্রে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল পেঁয়াজের ভূমিকা। মিশরিয়দের বিশ্বাস ছিল, পেঁয়াজের গোল আকার এবং পর পর থাকা বৃত্তাকার রিং-গুলি মানুষের অবিনশ্বর জীবনের প্রতীক। ফারাওদের মমি করে রাখা হত পরের পুনর্জন্মের কথা ভেবে। সেই সমাধিক্ষেত্রেও পেঁয়াজ পাওয়া গিয়েছে। ফারাও চতুর্থ রামিসেস-এর চোখের কোটরেও ছোট আকারের পেঁয়াজ গোঁজা ছিল। তাই মনে করা হয় এই 'হাঁটাহাঁটি পেঁয়াজ' সম্ভবত কোনও এক সময় মিশরীয়দের হাত ধরেই বহির্বিশ্বে পৌঁছেছিল। তার থেকেই এই পেঁয়াজের সঙ্গে মিশরিয় নামটি জুড়ে গিয়েছে।

এই পেঁয়াজ-এর স্বাদ ও গন্ধ অন্যান্য সাধারণ পেঁয়াজ-এর মতোই। তবে এই পেঁয়াজ সাধারণ পেঁয়াজের থেকে আকারে অনেকটাই ছোট হয়। আর আরেকটি বিষয় হল অনেক ঠান্ডাতেও এই পেঁয়াজ নষ্ট হয় না। মাইনাস ২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা পর্যন্ত সহ্য করার ক্ষমতা আছে 'মিশরিয় হাঁটাহাঁটি পেঁয়াজ'-এর। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম অ্যালিয়াম এক্স প্রোলিফেরাম। এটি সাধারণ পেঁয়াজ (অ্যালিয়াম সিপা) এবং সবুজাভ ও লম্বাটে 'ওয়েলস অনিয়ন'-এর (অ্যালিয়াম ফিসটুলোসাম) সংকর। গাছের প্রতিটি শাখার আগায় পেঁয়াজকলির মতো দেখতে একগোছা ফুল হয়। এই ফুলগুলিই পরবর্তীকালে পেঁয়াজে পরিণত হয়। পেকে গিয়ে প্রথমে গাছের গায়েই শিকড় ছড়ায় এবং শেষমেশ ঝরে পড়ে ফের নতুন গাছের জন্ম দেয়।