সাত দশকেরও বেশি সময় পরে মদের উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলল সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ ১৯৫২ সালে অ্যালকোহলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
সাত দশকেরও বেশি সময় পরে মদের উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলল সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ ১৯৫২ সালে অ্যালকোহলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে, মদ যে একেবারেই বিক্রি হতো না তা নয়। শুধুমাত্র অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য একটা মদের দোকeন রিয়াদে ছিল। রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে একটি কমপ্লেক্সের ভিতরে ছিল এই দোকান। যেখানে দূতাবাস এবং অন্য বিশিষ্ট বাসিন্দারা বাস করেন।
সৌদি আরব সম্প্রতি তার বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। তাই ৭৩ বছরের পুরনো অ্যালকোহলের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। রিয়াদে প্রথম মদের দোকানটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে খোলা হয়েছিল, তবে প্রাথমিকভাবে অমুসলিম কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৫ সালের শেষের দিকে চালু হওয়া নতুন নিয়মে ধনী, অমুসলিম বিদেশি বাসিন্দাদের বিয়ার, ওয়াইন এবং স্পিরিট কিনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যাদের পারমিট নেই তাঁদের বেতন সার্টিফিকেট বা কোম্পানি কর্তৃক জারি করা চিঠি নিয়ে যেতে হতো মদ কিনতে।
তাছাড়া, গ্রাহকদের ভিতরে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোনগুলি টেম্পার-প্রুফ ব্যাগে সিল করা হয়। অনেক ব্র্যান্ডের মদ থাকলেও দাম অনেক কিছু ওই দোকানে। একজন ব্যক্তি কত পরিমাণ অ্যালকোহল কিনতে পারবেন তা পয়েন্ট-ভিত্তিক মাসিক কোটা সিস্টেম দ্বারা নির্ধারিত হয়, তবে প্রতি মাসে প্রতি ব্যক্তিকে কয়েক ডজন লিটার স্পিরিট কেনার অনুমতি পান। তবে, কূটনীতিকরা ছাড় পান। কূটনৈতিক সুবিধার কারণে সীমাহীন পরিমাণে আমদানি করতে পারার কারণে ব্র্যান্ডেড অ্যালকোহলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দূতাবাসের মাধ্যমে সৌদি আরবে প্রবেশ করে।
ইসলামের দুটি পবিত্র স্থানের আবাসস্থল সৌদি আরব, তারা ১৯৫২ সালে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু তার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের বিস্তৃত প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দেশটি ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেছে, নিজেদের আরও মধ্যপন্থী এবং বিনিয়োগ-বান্ধব সমাজ হিসাবে উপস্থাপন করেছে। সৌদি আরবের শাসক ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশে সিনেমা হল পুনরায় চালু হয়েছে। বড় বড় সঙ্গীত উৎসব আয়োজন করেছে, মহিলাদের গাড়ি চালানোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
