ভারত-সহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে চলছে লকডাউন। বন্ধ উৎপাদন, বন্ধ আমদানি-রপ্তানি। আর তার জেরে যৌনাঙ্গে তালা লাগাবার উপক্রম আফ্রিকার মহাদেশের অধিকাংশ দেশের মহিলাদের। শুধু তাই নয়, এর জেরে আগামী কয়েক বছরে আফ্রিকায় প্রবল জনাধিক্যের সংকট দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সমাজকর্মীরা। এমনকী, এই করোনাভাইরাস  লকডাউনের জেরে এই মহাদেশে ফের এইচআইভি-র মতো আরেক সাংঘাতিক ভাইরাসের উপদ্রবও বাড়তে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যান্ড পেরেন্টহুড ফেডারেশন বা আইপিপিএফ, আফ্রিকায় পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতা প্রচার চালায়। তারাই জিম্বাবোয়ে, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওরপিয়া, মালাউই, মাদাগাস্কার-এর মতো আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের গ্রামিন এলাকায় কন্ডোম, গর্ভনিরোধক বড়ির মতো জন্মনিরোধক ব্যবস্থা বিলি করে থাকে। তাদের যোগান আসে মূলত ভারত-সহ কয়েকটি এশিয় দেশ থেকে। কিন্তু, লকডাউনের জেরে সমস্য শিপমেন্ট বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাই গ্রামে গ্রামে তাঁদের প্রতিনিধিদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এই নিয়ে রীতিমতো সমস্যায় পড়ে গিয়েছেন আফ্রিকান মহিলারা। জন্মনিরোধক কিছু না থাকার অর্থ অবাঞ্ছিত গর্ভাবস্থার ফাঁদে পড়া। এদিকে তারা যদি বলে যৌনাঙ্গে লকডাউন, তাহলে পুরুষরা শুনবে না। লকডাউনে সারাদিন বাড়ি বন্দি হয়ে তাদের চাহিদাও বেশি বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মীরা। গার্হস্থ হিংসার শিকার হতে হবে, ধর্ষণ, এমনকী ঘটনা প্রাণঘাতিও হতে পারে। এই অবস্থায় কবে পরিবার পরিকল্পনার সমাজ কর্মীরা ফিরবেন সেই দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।

স্থানীয় দোকান বা অন্য কোথাও-ও কন্ডোম বা গর্ভনিরোধক বড়ি কিছুই মিলছে না। আবার যেখানে যেখানে মিলছে, সেখানে লকডাউনের মধ্যে কন্ডোম কিনতে বেরিয়ে সেনার বেধড়ক মারের শিকার হয়েছেন কোনও কোনও মহিলা, এমন খবরও এসেছে। প্রথমে খবর ছিল, ভারতে ২১ দিনের লকডাউন থাকবে। তারপর তা আরও বাড়ায় হতাশা আরও বেড়েছে।

বস্তুত, সারা পৃথিবীতেই লকডাউনে কন্ডোম ও গর্ভনিরোধক বড়ির উৎপাদন বন্ধ, তাই বাজারে অভাব-ও রয়েছে। আর, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় বিশ্বব্যপী লকডাউনের কারণে, দম্পতিরা অনেকটা সময় একসঙ্গে বাড়িতে থাকছেন। ঘনিষ্ঠতার অনেক বেশি সুযোগ। তাই পরের বছর এই সময়টায় পৃথিবীতে শিশু জন্মের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আইপিপিএফ-এর কর্মীরা বলছেন, আফ্রিকায় বিষয়টা পরমাণু বিস্ফোরণের মতো সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। তাদের অনুমান, এভাবে চলতে থাকলে ১৩০ কোটি মানুষের আফ্রিকার জনসংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

'অতিরিক্ত ধান' থেকে তৈরি করা হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, করোনা রুখতে সিদ্ধান্ত মোদীর

লকডাউনে বন্ধ স্নান, বাধ্য করছেন সঙ্গমে, স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ স্ত্রীর

ভারতের অধিকাংশ করোনা রোগীই ধরাছোঁয়ার বাইরে, নয়া পরিসংখ্যানে উদ্বেগ বাড়ালো আইসিএমআর

সেইসঙ্গে অসুরক্ষিত যৌনতার ফলে এইডস রোগের ভাইরাস অর্থাৎ এইচআইভি সংক্রমণের হার হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অফ্রিকান মহিলারা সমস্যায় পড়েছেন স্যানিটারি প্যাড নিয়েও। বাজারে উধাও জনস্বাস্থ্যের অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যটিও। তাই এখন বিভিন্ন সংস্থা, এমনকী মার্কিন দূতাবাস থেকেও শিবির করে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেস মাস্ক তৈরি শেখানোর পাশাপাশি মহিলাদের কেচে নিয়ে বারবার ব্যবহার করার মতো স্যানিটারি প্য়াড তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।