হংকংয়ের বিখ্যাত মিড-লেভেলস চলন্ত সিঁড়িতে উঠতে এক মার্কিন ভ্লগারের প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। ভিডিওতে তিনি শহরের সুন্দর দৃশ্য দেখান এবং শেষমেশ নিচে নামবেন কীভাবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েন।
হংকং (Hong Kong) তার আকাশচুম্বী দালান, ব্যস্ত রাস্তা আর দারুণ সব দর্শনীয় স্থানের জন্য বেশ পরিচিত। এর মধ্যে অন্যতম হলো মিড-লেভেলস এসকেলেটর (Mid-Levels Escalator)। এটি মূলত আউটডোর কভার্ড চলন্ত সিঁড়ি ও হাঁটার রাস্তার একটা বড় নেটওয়ার্ক। নিত্যযাত্রী ও পর্যটকদের শহর ঘোরার এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয় এটি। ব্যস্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাওয়া এই রাস্তায় প্রচুর দোকান, রেস্তোরাঁ ও খাওয়ার জায়গা পড়ে। সম্প্রতি এক মার্কিন ট্রাভেল ভ্লগার এই বিখ্যাত চলন্ত সিঁড়িতে তাঁর যাত্রার ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি জানান, একেবারে উপরে পৌঁছাতে তাঁর প্রায় ২০ মিনিট সময় লেগেছে।
হংকংয়ের মিড-লেভেলস এসকেলেটরে মার্কিন ভ্লগার
ট্রাভেল ভ্লগার ক্যাট (Kat), যিনি 'ট্রাভেল উইথ ক্যাট' (Travel with Kat) নামে সোশ্যাল মিডিয়া পেজ চালান, তাঁর এই যাত্রার অভিজ্ঞতার ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তিনি একে বিশ্বের দীর্ঘতম আউটডোর কভার্ড চলন্ত সিঁড়ি বলেছেন। এমনকি এর মোট দৈর্ঘ্যকে তিনি বুর্জ খলিফার উচ্চতার সঙ্গেও তুলনা করেছেন।
দুপুর ২টো ৫১ মিনিটে তিনি যাত্রা শুরু করেন। ভ্লগার জানান, উপরে পৌঁছাতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগে, সেটাই তিনি দেখতে চান। টানা ১০ মিনিট ওঠার পর তিনি জানান, এখনও তাঁর উপরের দিকে ওঠাই শেষ হয়নি।
রাস্তা যত এগোয়, একের পর এক চলন্ত সিঁড়ি আর খাড়া পথ দেখে তিনি বেশ অবাক হয়ে যান। উঁচুতে উঠে শহরের দারুণ সব দৃশ্যও বেশ উপভোগ করেন তিনি। তবে একসময় তিনি ভাবতে শুরু করেন, একেবারে উপরে তো পৌঁছে যাচ্ছেন, কিন্তু নিচে নামবেন কী করে! কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, নিচে নামার জন্য হয়তো কোনো এসকেলেটর নেই।
প্রায় ২০ মিনিট পর অবশেষে তিনি এসকেলেটরের শেষ প্রান্তে পৌঁছান। যাত্রা শেষ করার আনন্দে মাতলেও, তিনি বলেন যে এখন তাঁকে নিচে নামার রাস্তা খুঁজতে হবে।
কীভাবে কাজ করে হংকংয়ের এই মিড-লেভেলস এসকেলেটর?
হংকংয়ের যাতায়াত ব্যবস্থায় মিড-লেভেলস এসকেলেটর বেশ পরিচিত একটা নাম। এটি মূলত সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্টের সঙ্গে মিড-লেভেলস আবাসিক এলাকাগুলোকে যুক্ত করেছে। শহরের পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াতের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক।
দিনের বিভিন্ন সময়ে এটি আলাদা আলাদা দিকে চলে। সকালের নিত্যযাত্রীদের সুবিধার্থে ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এটি নিচের দিকে নামে। আবার সকাল ১০টা ২০ মিনিট থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এটি উপরের দিকে ওঠে, যাতে মানুষ সহজেই মিড-লেভেলস এলাকায় ফিরতে পারেন।
ঢাকা দেওয়া এই এসকেলেটর আর হাঁটার রাস্তাগুলো অনেক বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার মধ্যে দিয়ে গেছে। রাস্তায় প্রচুর দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ পড়ে। এর ফলে পর্যটকরাও হংকংয়ের জনপ্রিয় জায়গাগুলোর বাইরে শহরের ভেতরের অংশ ঘুরে দেখার সুযোগ পান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কেমন প্রতিক্রিয়া?
ভ্লগারের এই অভিজ্ঞতার ভিডিও দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে একেবারে উপরে পৌঁছানোর পর তিনি কীভাবে নিচে নামবেন, তা নিয়ে তাঁর চিন্তার জবাব দিয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই জানিয়েছেন যে হেঁটেই নিচে নামা সম্ভব।
একজন ইউজার লেখেন, "নিচে নামার জন্য রাস্তাও রয়েছে।"
দ্বিতীয় একজন মন্তব্য করেন, "আমি গতকালই এটা করেছি, খোঁজাখুঁজির কিছু নেই, আমি জাস্ট সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে এসেছি।"
তৃতীয় একজন ইউজার মজার তথ্য দিয়ে বলেন, "মজার বিষয় হলো: নিত্যযাত্রীদের নিচে নামার সুবিধার জন্য দিনের অর্ধেক সময়ে এই এসকেলেটর উল্টো দিকেও ঘোরে।"












