Bangladesh Floods: লাগাতার ভারী বৃষ্টি বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। বন্যায় বাংলাদেশের ১০ লাখের বেশি মানুষ জলবন্দী হয়ে পড়েছেন। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার-সহ দেশের বিভিন্ন অংশ জলের তলায়। ভূমিধস ও বন্যা সংক্রান্ত নানা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টি আর তার জেরে হওয়া বন্যায় বাংলাদেশের ১০ লাখের বেশি মানুষ জলবন্দী হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে ভূমিধস ও বন্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় বিপর্যস্ত বাংলাদেশ।

জলবন্দি বাংলাদেশের একাধিক এলাকা
রাজধানী ঢাকা, বন্দর শহর চট্টগ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল এবং পর্যটন শহর কক্সবাজারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। রাস্তাঘাট ও রেললাইন ডুবে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। বহু স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সাতটি নদীর জল এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে, যার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
ঢাকার রাস্তা যেন নদী
ঢাকার ব্যস্ত এলাকা রাজারবাগে প্রায় দুই ফুট জলের ওপর দিয়ে চলা একটি রিকশায় বসে এক অফিসযাত্রী মহিলা সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, "আমি গাড়ি রেখেই বেরিয়েছি। আমার অফিস ফকিরিপুলে। অফিসের মালিক ফোন করে জানাল যে অফিসে জল ঢুকে গেছে। ওখানে অনেক আসবাবপত্র, তাই আমাকেই যেতে হচ্ছে। তাছাড়া, সৌদি আরব থেকে একটা ডেলিভারি লেটার আসার কথা, একজন আরবি ভাষী লোকও আসবেন। এই কারণে আমার যাওয়াটা খুব জরুরি।" তিনি আরও বলেন, "গাড়িটা বের করতে পারিনি। এখন রিকশায় চেপে বেরিয়েছি, কিন্তু খুব ভয় করছে, যদি রিকশা থেকে পড়ে যাই। যাই হোক, এই বৃষ্টির মধ্যে আপনারা যে ভিডিও করতে বেরিয়েছন, তার জন্য ধন্যবাদ।"
আরেকজন মহিলা বলেন, "আমরা যে কী ভীষণ সমস্যায় পড়েছি, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। এই রিকশাওয়ালা মামা...কী যত্ন করে ভাঙা আর জল জমে থাকা রাস্তা দিয়ে আমাদের পার করে আনলেন...যেন নিজের মেয়ে। ওনাকে অনেক ধন্যবাদ, আর আপনাকেও ধন্যবাদ।" রিকশাচালক বলেন, "এই বৃষ্টির মধ্যে পুরো ভিজে রিকশা চালাচ্ছি। জল প্রায় বুক সমান। তবুও এই কষ্টের মধ্যেই সংসার চালানোর জন্য খাটছি। এভাবেই আমাদের রোজগার হয়। এই বৃষ্টিতে আল্লাহ যা ব্যবস্থা করেন, তাতেই আমাদের চলে। আর কী বলব?"
বন্ধ স্কুল-স্থগিত পরীক্ষা
বৃষ্টি আর জল জমার কারণে স্কুলগুলো অনির্দিষ্টকালে জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একাধিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এক ছাত্র জানায়, "একটা বড় সমস্যা হল আমাদের পুরো বাংলাদেশটাই তো ডুবে যাচ্ছে। দেখুন, এখানে সবকিছু জলের তলায়। বাস, স্কুল—সবকিছু আজ বন্ধ। আজ স্কুলে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই পরীক্ষাও আর হবে না।"
আরেকজন ছাত্র বলে, "এত কষ্ট করে, এই ভারী বৃষ্টিতে ভিজে স্কুলে গেলাম। কিন্তু এখন স্কুলে পরীক্ষা বা অন্য কিছু হচ্ছে না। দেখুন কী অবস্থা! এত খেটে, পড়াশোনা করে স্কুলে গিয়েছিলাম...ওরা কি এখন আমাদের স্কুলে পড়াবে না? বলছে নাকি আরও এক সপ্তাহ পর স্কুল খুলবে।"
চট্টোগ্রামে সেনা
এদিকে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসামরিক প্রশাসনকে সাহায্য করার জন্য 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে।

