Bangladesh Minorities: বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বারবার ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা হচ্ছে। একের পর এক হিন্দু যুবক, মহিলাকে খুন করা হচ্ছে। এবার ময়মনসিংহে এক হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হল। এই ব্যবসায়ীকেও খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
KNOW
Niranjan Chandra Sutradhar: বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি খুন। ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি অঞ্চলের একটি স্লুইসগেটের সামনে জলে ভাসতে থাকা এক প্লাস্টিকের একটি ড্রামের ভিতর থেকে ৫০ বছর বয়সি এক হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, জলে ফেলার আগে ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছিল। তাঁর মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিরঞ্জনের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম রমেন্দ্র চন্দ্র সূত্রধর। ত্রিশালে বাড়ি হলেও, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ময়মনসিংহ স্টেডিয়াম অঞ্চলে এক ভাড়াবাড়িতে থাকতেন নিরঞ্জন। তিনি ময়মনসিংহের আঠারবাড়ি বিল্ডিং অঞ্চলে যৌথ মালিকানাধীন একটি গয়নার দোকান চালাতেন।
কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর উদ্ধার দেহ
গত রবিবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিরঞ্জন। তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তাঁর এক আত্মীয় তাঁকে স্টেডিয়াম অঞ্চলে দেখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগেও নিরঞ্জন কয়েকদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর ফিরে এসেছিলেন। তাই এবারও তিনি ফিরে আসবেন বলে ধরে নিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এই কারণেই নিরঞ্জন নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরা থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেননি। বুধবার স্থানীয় বাসিন্দারা বেগুনবাড়ি অঞ্চলে জলে একটি ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ড্রামটি উদ্ধার করে দেহ দেখতে পায়। পুলিশ একটি পরিচয়পত্রের টোকেনের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে। ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের দেওয়া ওই টোকেনটি নিরঞ্জনের প্যান্টের পকেট থেকে পাওয়া যায়। টোকেনের সূত্র ধরে সমবায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ তাঁর পরিচয় জানতে পারে। পরে নিরঞ্জনের স্ত্রী সুমিতা রানি সূত্রধর এবং ছেলে জয় সূত্রধর দেহটি শনাক্ত করেন।
তদন্ত শুরু পুলিশের
কোতোয়ালি মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন জানিয়েছেন, মৃতের দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিরঞ্জনকে অন্য কোথাও খুন করার পর তাঁর দেহ প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতরে ঢুকিয়ে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে কে তাঁকে খুন করেছে বা হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


