Wahiduzzaman Shamim Killed: অরাজকতার বাংলাদেশে (Bangladesh) শুধু যে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে তা নয়, কোনও মুসলিম যদি ধর্ম সম্পর্কে মৌলবাদীদের অপছন্দের মন্তব্য করেন, তাহলে তাঁকেও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। সাতক্ষীরায় (Satkhira) ওয়াহিদুজ্জামান শামিম নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

DID YOU
KNOW
?
বাংলাদেশে অরাজকতা
বাংলাদেশে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন করা হলেও, মৌলবাদীদের দাপট কমছে না। সারা বাংলাদেশেই অরাজকতা অব্যাহত।

Bangladesh Mob Lynching: ফেসবুকে (Facebook) ইসলাম (Islam) ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা (Satkhira) জেলার দেবহাটা উপজেলায় (Debhata Upazila) ওয়াহিদুজ্জামান শামিম নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। ২০০ থেকে ২৫০ জন মিলে এই যুবকের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। প্রথমে তাঁকে একবার প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারপর যখন গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখনও সেখানে গিয়ে হামলা চালায় মৌলবাদীরা। পুলিশ আক্রান্ত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। উন্মত্ত জনতা হাসপাতালের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে ফের মারধর করে বলে জানা গিয়েছে। সেখান থেকে এই যুবককে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সরব তসলিমা নাসরিন

শামিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশী লেখিকা ও সমাজকর্মী তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ওয়াহিদুজ্জামান শামিমকে কুর্ণিশ করি। সত্য কথা বলার জন্য জিহাদিরা তাঁকে হত্যা করেছে। তাঁর কথা বলার অধিকারের পাশে দাঁড়াই। ধর্মে বিশ্বাস করার যেমন অধিকার আছে, ধর্মে অবিশ্বাস করারও আছে। ধর্মের প্রশংসা করার যেমন অধিকার আছে, ধর্মের সমালোচনা করারও আছে। নিজের চিন্তা প্রকাশের জন্য কাউকে প্রাণ দিতে হবে কেন? যারা শামিমকে হত্যা করেছে, তারা তাঁর কোনও বক্তব্য খণ্ডন করেনি। একটি মানুষের শরীরের ওপর দল বেঁধে নিজেদের হিংস্রতা প্রয়োগ করেছে। মানুষ মেরে কোনও বিশ্বাসকে সত্য প্রমাণ করা যায় না। শুধু খুনিদের হাতে রক্ত লাগে।’

শামিমের হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২

শামিমকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু দেবহাটা থানার পুলিশ এখনও পর্যন্ত মাত্র দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মোক্তার হোসেন ও আসাদুল ইসলাম মোল্লা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।