টানা দু'দিন ধরে তাইওয়ানের আশেপাশে চিনা সামরিক বিমান ও জাহাজের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ২টি বিমান ও ৫টি জাহাজ দেখা গেছে। এর আগের দিন, অর্থাৎ বুধবার ১০টি বিমান ও ১১টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছিল।

তাইওয়ানের চারপাশে চিনের সামরিক কার্যকলাপ

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক (MND) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা পর্যন্ত চিনের ২টি সামরিক বিমান, ৫টি রণতরী এবং ২টি সরকারি জাহাজ তাদের জলসীমার আশেপাশে ঘুরতে দেখা গেছে। ওই বিমান দুটি তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোনে (ADIZ) ঢুকে পড়েছিল। এই ADIZ হলো এমন একটি এলাকা, যেখানে কোনো দেশের আকাশসীমা রক্ষা করার জন্য বিমান শনাক্ত করা হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে MND জানিয়েছে, "আজ সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে চিনের ২টি পিএলএ বিমান, ৫টি প্ল্যান জাহাজ এবং ২টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ২টি বিমানের মধ্যে ২টিই তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম ADIZ-এ প্রবেশ করেছিল। তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।"

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পোস্ট

এর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বুধবারও চিনের ব্যাপক সামরিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। সেদিন ১০টি চিনা সামরিক বিমান, ১১টি রণতরী এবং একটি সরকারি জাহাজ তাইওয়ানের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছিল। MND-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০টি বিমানের মধ্যে ৯টি মাঝের সীমা রেখা (median line) অতিক্রম করে তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব ADIZ-এ প্রবেশ করে।

বুধবারের ঘটনা নিয়েও MND একটি পোস্ট করে জানায়, "আজ সকাল ৬টা (UTC+8) পর্যন্ত তাইওয়ানের চারপাশে ১০টি পিএলএ বিমান, ১১টি প্ল্যান জাহাজ এবং ১টি সরকারি জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। ১০টির মধ্যে ৯টি বিমানই মাঝের সীমা রেখা অতিক্রম করে তাইওয়ানের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং পূর্ব ADIZ-এ প্রবেশ করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে এবং জবাব দিয়েছে।"

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পোস্ট

চিন-তাইওয়ান উত্তেজনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

তাইওয়ানের উপর চিনের দাবি একটি জটিল বিষয়, যার শিকড় ইতিহাস, রাজনীতি এবং আইনি যুক্তির মধ্যে নিহিত। বেজিং মনে করে, তাইওয়ান চিনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ধারণাটি তাদের জাতীয় নীতিতে গেঁথে রয়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান নিজেদের একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে দেখে, যাদের নিজস্ব সরকার, সেনাবাহিনী এবং অর্থনীতি রয়েছে। ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউশন অফ ইন্ডিয়ার মতে, তাইওয়ানের স্ট্যাটাস বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বড় বিষয়।

চিনের এই দাবির উৎস ১৬৮৩ সাল, যখন চিং রাজবংশ মিং অনুগতদের পরাজিত করে তাইওয়ান দখল করে। কিন্তু এরপর ১৮৯৫ সালে প্রথম চিন-জাপান যুদ্ধের পর চিং রাজবংশ তাইওয়ানকে জাপানের হাতে তুলে দেয়। প্রায় ৫০ বছর তাইওয়ান জাপানের উপনিবেশ ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর তাইওয়ান চিনের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। ১৯৪৯ সালে চিনে গৃহযুদ্ধের পর মূল ভূখণ্ডে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন (PRC) প্রতিষ্ঠিত হয়, আর চিন প্রজাতন্ত্র (ROC) তাইওয়ানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সমগ্র চিনের উপর তাদের দাবি জানায়। এর ফলে দুই পক্ষই নিজেদের সার্বভৌম বলে দাবি করতে থাকে। বর্তমানে তাইওয়ান কার্যত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করলেও চিনের সঙ্গে সামরিক সংঘাত এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি। (ANI)