- Home
- World News
- International News
- Fatah 4 Missile: 'ফাতাহ-৪' ক্রুজ মিসাইল টেস্ট পাকিস্তানের, রেঞ্জে ভারতের কোন কোন শহর?
Fatah 4 Missile: 'ফাতাহ-৪' ক্রুজ মিসাইল টেস্ট পাকিস্তানের, রেঞ্জে ভারতের কোন কোন শহর?
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'ফাতাহ-৪' (Fatah-4) নামের একটি ভূমি-ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই মিসাইলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি 'ফাতাহ-৪' (Fatah-4) নামের একটি ভূমি-ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এই মিসাইলটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাদের প্রচলিত যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মিসাইলটি তৈরি করেছে। 'ফাতাহ-৪' হল একটি ভূমি-ভিত্তিক ক্রুজ মিসাইল, যা পাকিস্তানের 'আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ড' দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এতে অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং আধুনিক নেভিগেশন বা দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে।

মিসাইলটি খুব নীচু দিয়ে উড়ে যায়, যার ফলে শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দেওয়া এর পক্ষে সহজ হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের দাবি, এই মিসাইলটি অত্যন্ত নির্ভুল ভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সাম্প্রতিক এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনাদের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং মিসাইলটির বিভিন্ন কারিগরি উপাদান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা।
'ফাতাহ-৪' ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা বা রেঞ্জ হল ৭৫০ কিলোমিটার। এটি ৭৫০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি ৩৩০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি ওয়ারহেড (বোমা বা বিস্ফোরক পেলোড) বহন করতে পারে। মিসাইলটি 'টেরেইন-হাগিং' (ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার) প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যার ফলে এটিকে মাঝপথে প্রতিহত করা বা আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে, পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলো (যেমন—লাহোর, শিয়ালকোট ইত্যাদি) থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে ভারতের বেশ কিছু প্রধান শহর এই মিসাইলের আওতার মধ্যে চলে আসবে। শহরগুলো হল-অমৃতসর, জলন্ধর, লুধিয়ানা, পাতিয়ালা, বাথিন্ডা, জম্মু, পাঠানকোট, উধমপুর, হিসার, সিরসা, আম্বালা, দিল্লি-এনসিআর, গুরুগ্রাম, নয়ডা, ফরিদাবাদ, শ্রীগঙ্গানগর, বিকানের, জয়সলমের, যোধপুর, লখনউ, আগ্রা, মিরাট, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা।
পাকিস্তানের দাবি, এই মিসাইলটি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি। যদিও সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি তৈরির ক্ষেত্রে চিনের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এই মিসাইল পরীক্ষা করা হল।
'ফাতাহ-৪'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পাকিস্তানের আঘাত হানার সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। ভারতের বহু প্রধান শহর, সামরিক ঘাঁটি এবং বিমানবন্দর এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে পড়ে। ভারত ইতিমধ্যেই তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলোকে (যেমন—S-400, আকাশ এবং বারাক-8) শক্তিশালী করে তুলছে। 'ফাতেহ-৪'-এর সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতারই প্রমাণ বহন করে। এর ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লা ভারতের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য, ভারতের সেনাবাহিনীও দূরপাল্লার 'ব্রহ্মস', 'অগ্নি' এবং অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা সুসজ্জিত।