ইলন মাস্কের দাবি, ভারতের সব নিয়মকানুন মেনে চলার পরও স্টারলিঙ্ককে বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। এর পেছনে মুকেশ আম্বানির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, ভারত সরকারের দাবি, নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
ভারতে স্টারলিঙ্কের বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে জট কিছুতেই কাটছে না। স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের দাবি ছিল, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভারতে স্টারলিঙ্কের কাজে বাধা দিচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক সেই দাবি খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের সরব হলেন মাস্ক। তাঁর সোজাসাপ্টা প্রশ্ন, সব নিয়ম মানার পরও কেন তাঁদের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না?
ভারতে লাইসেন্স না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মাস্ক
এক্স (আগে টুইটার) হ্যান্ডেলে একাধিক পোস্টে মাস্ক এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ভারতে স্টারলিঙ্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ ইউজারদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। মাস্কের দাবি, গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সমস্ত আইনকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে স্টারলিঙ্ক। তা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক লাইসেন্স তাদের অধরাই রয়ে গেছে।
একটি পোস্টে মাস্ক সরাসরি লেখেন, "১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্কের লাইসেন্স রয়েছে। ভারত সরকারের প্রতিটি নিয়ম এবং শর্ত গত পাঁচ বছর ধরে আমরা মেনে চলেছি। তারপরও কেন লাইসেন্স নেই? আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?"
এক্স-এ অন্য একটি পোস্টে মাস্ক লেখেন, "যাঁরা স্টারলিঙ্কের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা আসলে পিছিয়ে পড়া মানুষদেরই ক্ষতি করছেন। বড় শহরের ধনী মানুষদের কাছে এমনিতেই ভালো ইন্টারনেট আছে, তাই তাঁরা এই সমস্যাটা বুঝবেন না।"
তাঁর আরও দাবি, "স্টারলিঙ্ক একদম প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়। এর ফলে মানুষ নিজেরা পড়াশোনা করতে পারে এবং সারা বিশ্বে নিজেদের জিনিসপত্র বিক্রি করে উন্নতি করতে পারে।"
সোশ্যাল মিডিয়ায় মাস্কের উত্তর
আইনজীবী নীতিন মেশরাম নামে এক এক্স ইউজারের প্রশ্নের উত্তরে মাস্ক জানান, ভারতের যেসব জায়গায় ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, সেখানে স্টারলিঙ্ক দারুণ কাজ করবে।
তিনি বলেন, "আমেরিকা সহ কোনও দেশেই ১০০ শতাংশ নেটওয়ার্ক কভারেজ নেই। কিন্তু যাঁদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে সেই ঘাটতি মেটাতে পারে স্টারলিঙ্ক।"
এর আগে মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, কিছু 'প্রভাবশালী ব্যবসায়ী' ভারতে স্টারলিঙ্ককে আটকে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক সেই দাবি উড়িয়ে দেওয়ার পরই মাস্কের এই নতুন পোস্টগুলো সামনে এল।
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সহ সমস্ত টেলিকম পরিষেবার জন্য সরকার একটি স্বচ্ছ এবং বৈষম্যহীন নিয়ম তৈরি করেছে। ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি সংস্থাকে নিরাপত্তার নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। ইউজারদের ডেটা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। বর্তমানে তিনটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থারই নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে তবেই স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে। আপাতত তিনটি সংস্থাই একই স্তরে রয়েছে। তাই নিয়মকানুন নিয়ে বৈষম্যের যে অভিযোগ উঠছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
এর আগে এক্স-এ এক ইউজার ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পোস্ট করেছিলেন। তার উত্তরে মাস্ক অভিযোগ করেন, "দুর্ভাগ্যবশত, ভারতের মানুষের ওপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আমাদের (স্টারলিঙ্ক) আটকে দিচ্ছে। তাঁরা কারা, সেটা আপনারা আন্দাজ করতেই পারেন... এটা ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে একটা অপরাধ।"
ভারত নিয়ে আশা ইলন মাস্কের
গত ৭ অক্টোবর ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্টারলিঙ্কের বিজনেস অপারেশন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার জানান, তাঁরা ভারতের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। ইতিমধ্যেই দেশে ২০টি গেটওয়ে সাইট তৈরি করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ভারতীয় ইউজারদের ডেটা ভারতেই রাখা হচ্ছে।"
ড্রেয়ার আরও জানান, ভারতের বাজারে পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরিতে স্টারলিঙ্ক প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। শত শত অ্যান্টেনা সহ ২০টি গেটওয়ে সাইট তৈরি করা হয়েছে।
গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য তাঁরা এখানকার রেগুলেটর এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন বলেও জানান ড্রেয়ার।


