২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ফের দাবি তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তিনি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন, তাই এই পুরস্কার তাঁরই প্রাপ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য ফের একবার সরব হলেন। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁরই পাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত তাঁকে বেছে নেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্য দাবিদার আমি: ট্রাম্প

বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করিয়ে দেন যে, খুব শিগগিরই নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা হতে চলেছে। আর এই পুরস্কারের জন্য তিনি যে একজন যোগ্য দাবিদার, সেটাও বুঝিয়ে দেন। ট্রাম্প বলেন, "সময়টা প্রায় চলেই এসেছে। তবে গতবার যিনি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাঁর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এটা পেয়ে আমি খুব সম্মানিত বোধ করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি এই পুরস্কার আর কারও প্রাপ্য নয়।"

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তাঁর কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলো আগের সব প্রেসিডেন্টের সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তিনি সফলভাবে আটটি আলাদা আলাদা যুদ্ধ মিটিয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, "আমি এমন অনেক কিছু করেছি যা অন্য কেউ কখনও করেনি। আমি বড়াই করছি না, শুধু সত্যিটা বলছি। সম্ভবত কোনও প্রেসিডেন্ট কখনও কোনও যুদ্ধ মেটাননি। আর আমি আটটা যুদ্ধ মিটিয়েছি।"

নোবেল কমিটিকে নিশানা ট্রাম্পের

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মানজনক পুরস্কারের ঘোষণা হওয়ার কথা। তবে নোবেল কমিটি তাঁকে এড়িয়ে যেতে পারে, এমনটা আঁচ করে ট্রাম্প ওই প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, "আমার মতো লোকেদের এই পুরস্কার না দেওয়ার একটা বদনাম এই কমিটির রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "তবে আমি এটা পাই বা না পাই, আমি অনেক বেশি কাজ করেছি। আর আমার মনে হয়, আমাকে না দিলে সেটা ওদের জন্যই খুব অসম্মানের হবে। আমি কিন্তু অবজ্ঞা থেকে কথাটা বলছি না। আমি বলছি কারণ, যখন আপনি আটটা যুদ্ধ মেটান, আর অন্য কেউ সেটা কখনও পারেনি, তখন এটাই সত্যি।"

ট্রাম্পের কটাক্ষ

রাজনৈতিক বিরোধীদেরও একহাত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০০৯ সালে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে দেওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, "ওবামা এটা পেয়েছিলেন, অথচ তিনি কিছুই করেননি। তিনি এখনও জানেন না কেন তাঁকে এটা দেওয়া হয়েছিল। তিনি নির্বাচিত হওয়ার ঠিক পরেই, একদম শুরুতে এটা পেয়েছিলেন, আর তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না কেন তিনি এটা পেলেন।"

এরপর গত বছরের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্পের দাবি, ওভাল অফিসে একটি বৈঠকের সময় মারিয়া তাঁর মেডেলটি ট্রাম্পকে দিয়ে দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, "গতবার ওরা এক তরুণীকে এটা দিয়েছিল, যিনি একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি বলেছিলেন যে এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য নয়, এটা আমার প্রাপ্য। আর তাই তিনি এটা আমাকে দিয়ে দেন।"

ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকরা বারবার প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের দাবি, শুল্ক বসানোর হুমকির মতো পদক্ষেপগুলোই শত্রু দেশগুলোকে কূটনৈতিক আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।

তবে বেশ কয়েকটি মহল তাঁর এই কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর কিছু অংশ এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকার মতো জায়গাগুলোতে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়েছে।

এছাড়া, ইউক্রেনের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ খুব দ্রুত মিটিয়ে ফেলার বড়াই করলেও, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে কোনও টেকসই শান্তি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যেও অস্থিরতা চলছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানের সঙ্গে ক্রমাগত সংঘাত লেগেই রয়েছে। এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নোবেল কমিটি

অসলোর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি পরিচালনা করে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সম্মানের জন্য সম্ভাব্য দাবিদারদের মধ্যে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডের জন্য রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্বস্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও উঠে আসছে।