আর্থিক সংবাদমাধ্যম Moneycontrol-এর প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জুকারবার্গ ভারত সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য মেটা প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের উপস্থিতি, ডিপফেক কনটেন্টের বিস্তার এবং কিছু অপারেশনাল বা পরিচালনাগত ত্রুটির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

ভারতে মেটা (Meta)-র বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (Child Sexual Abuse Material বা CSAM), ডিপফেক ভিডিও এবং কিছু পরিচালনাগত ত্রুটির জন্য ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকারবার্গ। বুধবার একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।

আর্থিক সংবাদমাধ্যম Moneycontrol-এর প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জুকারবার্গ ভারত সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য মেটা প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্টের উপস্থিতি, ডিপফেক কনটেন্টের বিস্তার এবং কিছু অপারেশনাল বা পরিচালনাগত ত্রুটির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে বেআইনি ও ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকার বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, অনলাইন প্রতারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেক ভিডিও নিয়ে সরকারের কড়া অবস্থান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই মেটা প্রধানের এই ক্ষমাপ্রার্থনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির মুখ বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। গত কয়েক বছরে এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত বেড়েছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

অন্যদিকে, শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া রোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। মেটাও দাবি করে যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং মানব পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার কাজ করে। তবে এত কিছুর পরেও এমন কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে থেকে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংস্থার নজরদারি ও কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।

যদিও এই বিষয়ে মেটার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই তথ্য ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংস্থার প্রধানের এই ক্ষমাপ্রার্থনা ভবিষ্যতে ভারতে ডিজিটাল নিরাপত্তা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।

এখন নজর থাকবে, ভারত সরকার এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং মেটা ভবিষ্যতে তাদের প্ল্যাটফর্মকে আরও নিরাপদ করতে কী ধরনের নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।