রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। ভারতের ‘রাইট অফ রিপ্লাই’-এ রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত, দ্বিচারিতা এবং সেনার আধিপত্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের ফল ভুগতে হবে।

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। ভারতের ‘রাইট অফ রিপ্লাই’-এ রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত, দ্বিচারিতা এবং সেনার আধিপত্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবেই এবং পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের ফল ভুগতে হবে। শেহবাজ শরিফ রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে কাশ্মীর, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এবং সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জল বন্ধ বা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ‘যুদ্ধের পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

সেনাবাহিনীর দ্বারা, সেনাবাহিনীর জন্য এবং সেনাবাহিনীরই একটি শাসনব্যবস্থা

এর পরেই ‘রাইট অফ রিপ্লাই’-তে পেটাল গেহলট বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চকে ব্যবহার করে বারবার মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি তুলে ধরছে। তাঁর বক্তব্য, আমরা এমন এক সরকারের কাছ থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ভণ্ডামিপূর্ণ সব বুলি শুনলাম, যাদের রাজধানী এই মুহূর্তে খোদ নিজেদের জনগণের বিরুদ্ধেই দুর্গের মতো সুরক্ষিত করা হচ্ছে। আর, এমনটা ঘটার কারণ হল এটি সেনাবাহিনীর দ্বারা, সেনাবাহিনীর জন্য এবং সেনাবাহিনীরই একটি শাসনব্যবস্থা।। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মুখ বদলালেও পাকিস্তানে আসল ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, "তাদের হাতের পুতুলরা হয়ত আসবে আর যাবে, কিন্তু ক্ষমতার আসল নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে—তা নিয়ে যেন আমাদের কোনও বিভ্রান্তি না থাকে।" গেহলট অ্যাবোটাবাদে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের অবস্থানের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, জায়গাটি ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অ্যাকাডেমির খুব কাছেই। তিনি বলেন, "নিউ ইয়র্ক শহর ও বিশ্ব যখন ভয়াবহ ৯/১১ সন্ত্রাসবাদী হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন করল, তার ঠিক দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই ঘটনাটি (পাকিস্তানের প্রতিনিধির বক্তব্য) ঘটল। এই প্রেক্ষাপটটি মনে রাখা জরুরি, কারণ ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান অ্যাকাডেমির ঠিক দোরগোড়াতেই বসবাস করছিল।"

এছাড়া ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও মানবাধিকারের বিষয়ে পাকিস্তানের ভণ্ডামির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের প্রতি দেশটির আচরণ জাতিসংঘে করা তাদের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গেহলট বলেন, "আমরা যেসব মতামত শুনলাম, তা এসেছে এমন সব পক্ষের কাছ থেকে যাদের গোঁড়ামি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা দিনের বেলা নিরাপত্তার কথা বলে, অথচ রাতে তারাই সন্ত্রাসবাদ চালায়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "এই পরিষদে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে এমন এক সরকার কথা বলল, যাদের শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হল ধর্ম অবমাননা-বিরোধী আইন। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, তা বিশ্ব জানে। কোনও ধার্মিক বুলি বা ফাঁকা বুলি দিয়ে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।"

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে শরিফের মন্তব্যের জবাবে গেহলত ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। তিনি বলেন, “এটি আমার দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ এবং সর্বদা তাই থাকবে।”

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়ে ইসলামাবাদের দাবির প্রেক্ষিতে গহলৌত বিশ্ববাসীর দৃষ্টি পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির দিকে ফেরানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তবে যদি কাশ্মীর নিয়ে কথা বলতেই হয়, তাহলে আসুন আমরা পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের দিকে নজর দিই। রাওয়ালকোটের মানুষদের জিজ্ঞাসা করুন সেখানে দীর্ঘকাল ধরে চলা নির্বিচার হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং মৌলিক অধিকার হরণের ঘটনাগুলো সম্পর্কে।”

পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে

গেহলত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনেন এবং বলেন যে, ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। এই সমস্যার মূলে রয়েছে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ। তিনি আরও বলেন, “আমরা গত বছর দেখিয়ে দিয়েছি যে সন্ত্রাসবাদীদের পালানোর বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার আমরা প্রয়োগ করব এবং তা অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের পরিণাম তাদেরই ভোগ করতে হবে।"