হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে দুটি বিল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ইরানের সংসদ। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করেছেন এক শীর্ষ ইরানি নেতা। ট্রাম্পকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বললেন তিনি।
হরমুজ প্রণালীর ওপর নজরদারি এবং বিদেশি প্রভাব মোকাবিলায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে ইরান। রবিবার এই বিল দুটি নিয়ে ইরানের সংসদে একটি ভার্চুয়াল অধিবেশন হওয়ার কথা। এর মধ্যেই এই কৌশলগত জলপথ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
হরমুজ নিয়ে ইরানের ২টি বিল
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা IRIB জানিয়েছে, সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি কমিটির সদস্যরা হরমুজ প্রণালীর জন্য প্রস্তাবিত "স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান" এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলার জন্য আরেকটি বিল খতিয়ে দেখবেন।
এই আইন পর্যালোচনার ঠিক আগেই ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ঘোষণা করেন যে, ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি যৌথ শিপিং রুটের ম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রযুক্তিগত আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মূলত, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (memorandum of understanding) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, তেহরান ও মাস্কাটকে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি নতুন নেভিগেশন কাঠামো তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইরানের কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করলেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খোলার প্রশ্ন উঠবে।
কটাক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে আমেরিকা "শীঘ্রই" হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসাবে ঘোষণা করবে। তার এই মন্তব্যের পর তেহরানের এক সাংসদ তাকে নিয়ে রীতিমতো ব্যঙ্গ করেছেন।
ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করেন। তিনি ট্রাম্পকে হরমুজ নিয়ে হুমকি না দিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন।
শনিবার আজিজি লেখেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফাঁকা বুলি না আউড়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা। নইলে শেষে তাঁকেও হয়তো ফুড ট্রাকে লুকিয়ে থাকতে হবে।"
আজিজির এই মন্তব্যটি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, ইরানি গুপ্তহত্যার হুমকির রিপোর্টের মধ্যে আঙ্কারায় সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরামর্শে তাঁকে একটি বিমান থেকে অন্য বিমানে সরানো হয়েছিল।
ইরানি এই আইনপ্রণেতা জুলাই মাসে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পর আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের প্রস্থানের ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কাতারের দান করা একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে তুরস্কে পৌঁছেছিলেন এবং প্রকাশ্যে সেই বিমানেই তাঁকে উঠতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু, দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পরে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি ছোট সি-৩২এ সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে। একদিকে ইরানের সাংসদরা এই সামুদ্রিক পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে আইন প্রণয়নের কথা ভাবছেন, অন্যদিকে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নতুন শিপিং লেন নির্ধারণের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার বলেন, এই আলোচনা এবং জলপথ পুনরায় খোলার বিষয়টি "দুটি ভিন্ন বিষয়"।
তিনি বলেন, "প্রণালীটি আবার খোলা হবে কি না, তা নির্ভর করবে আমেরিকার অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর।" এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্তি দেওয়া।


