চিন মহাকাশে পাঠিয়েছে তিনটি বিশেষ রেডিও ট্র্যাকিং স্যাটেলাইট। Diting-01A, Diting-01B এবং Diting-01C নামের এই তিন উপগ্রহের মাধ্যমে মহাকাশ থেকেই বিভিন্ন রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত ও তার উৎসের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। যুদ্ধজাহাজ, রাডার, জ্যামার এবং অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার সিগন্যালও এই প্রযুক্তির আওতায় আসতে পারে।

চিন মহাকাশে পাঠিয়েছে তিনটি বিশেষ রেডিও ট্র্যাকিং স্যাটেলাইট। Diting-01A, Diting-01B এবং Diting-01C নামের এই তিন উপগ্রহের মাধ্যমে মহাকাশ থেকেই বিভিন্ন রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত ও তার উৎসের অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। যুদ্ধজাহাজ, রাডার, জ্যামার এবং অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার সিগন্যালও এই প্রযুক্তির আওতায় আসতে পারে। ২০ সেপ্টেম্বর চিনের Lijian-1 Y18 রকেটের মাধ্যমে মোট ৯টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। তার মধ্যে ছিল Diting-01 সিরিজের তিনটি উপগ্রহ। এগুলি মূলত মহাকাশ থেকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে Diting-01?

সহজভাবে বললে, কোনও জাহাজ বা রাডার যখন রেডিও সিগন্যাল পাঠায়, তখন সেই সিগন্যাল তিনটি স্যাটেলাইটে পৌঁছতে সামান্য সময়ের পার্থক্য তৈরি হয়। তিন উপগ্রহে সিগন্যাল পৌঁছনোর এই সময়ের ব্যবধান বিশ্লেষণ করেই সিগন্যালের উৎস কোথায়, তার অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। এই প্রযুক্তিকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সেন্সিং বলা হয়। এর অন্যতম সুবিধা হল, কোনও জাহাজকে সরাসরি ক্যামেরায় দেখা না গেলেও সেটি রেডিও বা রাডার সিগন্যাল পাঠালে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

যুদ্ধজাহাজ ও রাডারের উপর নজর?

এই প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। সমুদ্রে থাকা কোনও যুদ্ধজাহাজের রাডার বা যোগাযোগ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকলে তার নির্গত রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করে অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। একইভাবে রাডার, ইলেকট্রনিক জ্যামার বা অন্যান্য রেডিও-নির্ভর ব্যবস্থার সিগন্যালও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। তবে কোনও স্যাটেলাইটই যে সব পরিস্থিতিতে সব জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে, এমন নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তু থেকে শনাক্তযোগ্য রেডিও সিগন্যাল নির্গত হওয়া প্রয়োজন।

৩ থেকে ৬০ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক

Diting-01 প্রকল্পকে চিনের বৃহত্তর মহাকাশভিত্তিক রেডিও-ট্র্যাকিং নেটওয়ার্কের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রায় ৬০টি স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলিকে লো আর্থ অরবিট বা LEO-তে স্থাপন করার লক্ষ্য রয়েছে। এমন নেটওয়ার্ক তৈরি হলে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রেডিও সিগন্যালের উৎস শনাক্ত এবং তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

শুধু সামরিক নয়, বাণিজ্যিক ব্যবহারও

চিনের এই প্রকল্পকে শুধুমাত্র সামরিক নজরদারির প্রযুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা সমুদ্র পরিবহণ, জরুরি পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের মহাকাশভিত্তিক রেডিও-ট্র্যাকিং পরিষেবার আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই মার্কিন সংস্থা HawkEye 360 এবং ফ্রান্সের Unseenlabs-এর মতো সংস্থা কাজ করছে। চিনের Diting-01 প্রকল্প সেই বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।